ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর এলাকায় যে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে সেটি নব্য জেএমবির আস্তানা বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে নব্য জেএমবির সদস্যরা নিয়মিত আসা-যাওয়া করতো। বাড়িটিতে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর এই আস্তানায় সর্বাত্মক অভিযান চালানো হবে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।
দিদার আহমেদ বলেন, ‘এখানে নব্য জেএমবির আস্তানার খবর জানতে পেরে রবিবার ভোরে সিটিটিসি অভিযান চালাতে যায়। সেই সময় মহেশপুর থানার ওসি আহমেদ কবিরকে এক জঙ্গি জড়িয়ে ধরে। তিনি জঙ্গিকে লাথি মেরে সরিয়ে বের হয়ে আসেন। পরে গোলাগুলি শুরু হয়। এসময় এক জঙ্গি আত্মঘাতী ও একজন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে সেও মারা যায়।’ জঙ্গিদের ঘটানো বিস্ফোরণে সিটিটিসির এক কর্মকর্তাসহ পুলিশের তিন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
ডিআইজি আরও জানান, এখন পর্যন্ত এই অভিযানের কোনও নাম দেওয়া হয়নি। ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট আসার পর সর্বাত্মক অভিযান শুরু হবে। বর্তমানে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে। তবে সিটিটিসির টিম অভিযানের জন্য প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘রবিবার সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লেবুতলায় আরেকটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযান শেষ হয়েছে। সেখান থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল ও আটটি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সিটিটিসি এই অভিযান চালায়। দুইজনকে আটক হয়েছে।’
এর আগে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মীজানুর রহমান জানান, মহেশপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে সিটিটিসির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নাজমুল হাসান, ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের এসআই মহসিন আলী ও কনস্টেবল মুজিবুর রহমান আহত হয়েছেন। জনসাধারণের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতে বাড়িটির ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল টিম ঝিনাইদহের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, বজরাপুর এলাকার এই বাড়ির মালিক জহুরুল ইসলাম, তার ছেলে জসিম, ভাড়াটিয়া আলমগীর হোসেন ও তাদের প্রতিবেশী আতিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. ইউসুফ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে আরও জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানায় আবু আলীকে খুঁজতে গিয়ে ঝিনাইদহে এই দুই আস্তানার খবর পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য গত ২২ এপ্রিল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনেপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের সদস্যরা।অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন সাউথ প’ বা দক্ষিণের থাবা। প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের অভিযানে ওই জঙ্গি আস্তানা থেকে বিস্ফোরক তৈরি রাসায়নিক ভর্তি ২০টি ড্রাম, একটি সেভেন পয়েন্ট সিক্স বোরের পিস্তল, একটা ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পাঁচটি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়। বাড়ির ভেতর থেকে ১৫টি জিহাদি বইও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের ৩০ জন এবং খুলনা রেঞ্জের পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৪০০ সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন।
অপারেশন ‘সাউথ প’ (দক্ষিণে থাবা) সমাপ্ত ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ জানান, বাড়িটিকে জঙ্গিদের বোমা তৈরির কারখানা বলা যেতে পারে। এই বাড়িতে তিন-চার জন জঙ্গি ছিল। তারা আগেই পালিয়ে গেছে। এই জঙ্গিদের সবাই জেএমবি ও নব্য জেএমবির সদস্য। এই বাড়িতে জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিভাগীয় পর্যায়ের লোকজন আসা যাওয়া করতো।
/এফএস/
আরও পড়ুন-








