চুয়াডাঙ্গায় ঋণের কিস্তি পারিশোধ করতে না পারায় এনজিওকর্মীদের কটূক্তি ও লাঞ্ছনা সইতে না পেরে শিউলি খাতুন নামে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় পুলিশ সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজারের নিজ বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে। তবে উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস তাদের কর্মীদের অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নিহত গৃহবধূ শিউলী সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজার এলাকার ইসরাইল হোসেনের স্ত্রী। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিউলীর স্বামী প্রায় ১০ বছর ধরে মালেয়শিয়া প্রবাসী। সম্প্রতি তিনি সেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। তাকে সুস্থ করতে শিউলী খাতুন স্থানীয় বেশ কয়েকটি এনজিও থেকে টাকা ঋণ নিয়ে মালেয়শিয়ায় পাঠান।
শিউলী খাতুনের ছেলে লাভলু বলেন, ‘বাবা কিস্তির টাকা না পাঠানোয় গত মাসে এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন আমার মা। এই নিয়ে টিএমএসএসের দুজন মাঠকর্মী বাসায় এসে মাকে গালিগালাজসহ নানা ধরণের কটূক্তি করে যায়। এই বিষয়টি নিয়ে মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ফের টিএমএসএসকর্মীরা বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ঘরের দরজায় লাথি মেরে যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর দুপুর ৪টার দিকে নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না জড়িয়ে আত্মহত্যা করেন আমার মা।’
ঘটনাটি ওই এলাকায় জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে আবার টিএমএসএস এনজিওর কার্যালয়ে চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে টিএমএসএস এর এরিয়া ম্যানেজার বাবুল হোসেন জানান, তাদের কোনও কর্মী শিউলী খাতুনের বাড়িতে গিয়ে খারাপ ব্যবহার বা গালিগালাজ করেনি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. আব্দুল মালেক এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এনজিওগুলোর সুদের ব্যবসার কারণে চুয়াডাঙ্গায় শুধু শিউলী নয় তার মতো অনেকে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।’ তিনি কটূক্তিকারী এনজিওকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তোজাম্মেল হক বলেন, ‘ঘটনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
/এফএস/







