খুলনা শিপইয়ার্ড আন্তর্জাতিকমানের আরও দুটি যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ করেছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য নির্মিত এই দুই যুদ্ধ জাহাজের নাম নিষাণ ও দুর্গম। ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই দুই যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ করা হয়েছে। খুলনার খালিশপুরে তিতুমীর নেভাল জেটিতে আগামী ৮ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ জাহাজগুলো উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
শিপইয়ার্ডে একইসঙ্গে ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে সাবমেরিনের জন্য সহায়ক টাগবোট হালদা ও পশুর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন দুই যুদ্ধ জাহাজ ভৈরব ও রূপসা নদে পরীক্ষামূলকভাবে চলাচলও করছে। এ চলাচলের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) যুদ্ধ জাহাজ ‘দুর্গম’ বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। যুদ্ধ জাহাজ ‘নিশান’ আগামী শুক্রবার (৬ অক্টোবর) বঙ্গোপসাগরে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে পদ্মা, সুরমা, অতন্ত্র, অদম্য ও অপরাজেয় নামে পাঁচটি যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ করে খুলনা শিপইয়ার্ড। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শিপইয়ার্ড ৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা লাভ করে। আর ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে লাভ করে ৭৯ কোটি টাকা। শিপইয়ার্ডে এ পর্যন্ত ৭২৫টি জাহাজ নির্মাণ ও দুই হাজার ২২৪টি জাহাজের মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (উৎপাদন) ক্যাপ্টেন এম নুরুল ইসলাম শরীফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বঙ্গোপসাগর এলাকার নিরাপত্তা, সম্পদ আহরণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে নৌ বাহিনীর দায়িত্ব পালনে যুদ্ধ জাহাজের বিকল্প নেই। সে কারণে ৬৪ দশমিক ২ মিটার দৈর্ঘ্য, ৯ মিটার প্রস্থের নিশান ও দুর্গম নামে দুটি যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ করা হয়েছে। জাহাজ দুটি নির্মাণে ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এই মানের জাহাজ বিদেশে তৈরি করতে এক হাজার কোটি টাকা খরচ হতো। জাহাজ দুটি নির্মাণে ২৪ মাস সময় লাগে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। নৌ বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরে বিএন দুর্গমের লঞ্চিং (পানিতে ভাসানো) করেন। যুদ্ধ জাহাজ দুটি নির্মাণে চীন কারিগরি সহায়তা দেয়। যুদ্ধ জাহাজ দুটির প্রত্যেকটির গতিবেগ ঘন্টায় ২৫ নটিক্যাল মাইল।’
তিনি জানান, একইসঙ্গে ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দুটি টাগ বোট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এগুলো সাবমেরিন চলাচলে সহায়তা করবে। হালদা ও পশুর নামের প্রতিটি জাহাজের দৈর্ঘ্য ৩২ মিটার। মালয়েশিয়ার কারিগরি সহায়তায় এ টাগবোর্ড দুটি নির্মিত হয়েছে। এ দুটিতে আধুনিক সামরিক সক্ষমতা এবং সাবমেরিনের বিরুদ্ধে সংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে।
উল্লেখ্য, রূপসা নদীর তীরে ১৯৫৭ সালে ৬৮ দশমিক ৫৭ একর জমির ওপর খুলনা শিপইয়ার্ড স্থাপিত হয়। মৃতপ্রায় খুলনা শিপইয়ার্ড ১৯৯৯ সালের ৩ অক্টোবর নৌ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আরও পড়ুন- শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বদলে গেছে রাজশাহী কলেজ







