নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাঁশে দাড়াতে চান সাধারণ ওয়ার্ডে একমাত্র নারী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) রোজিনা বেগম রাজিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। নারী-পুরুষের সমান অধিকার। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে সাধারণ ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছি।’ বৃহস্পতিবার (৩ মে) নির্বাচনি প্রচারণার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
খুলনা সির্টি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৪৮ জন। এর মধ্যে একমাত্র নারী কাউন্সিলর প্রার্থী রোজিনা বেগম রাজিয়া ১নং ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ওয়ার্ডে অওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রাথীসহ ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। ১৫ মে নির্বাচনে তিনি নারী ভোটারদের বিপ্লবে নারীর অধিকার প্রাতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে দিন-রাত নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে তার প্রতীক ঝুড়ি।
মহেশ্বরপাশার মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা মো. আনিস মাতুব্বর ও নিরু বেগমের কন্যা রাজিয়া ৮ম শ্রেণি পাশ। হাঁস-মুরগি পালন ও বাড়ি ভাড়া থেকে তার বার্ষিক আয় রয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার নামে কোনও ধরনের মামলা এখন পর্যন্ত নেই। রাজিয়ার স্বামী মো. মিজান একজন ব্যবসায়ী। বাবা আনিস মানিকতলা খাদ্য গুদামের সর্দার ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য। রাজিয়ার ৩ সন্তানের মধ্যে ১ ছেলে ও ২ মেয়ে। ২০১৩ সালের নির্বাচনে তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসন ১ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেবার তার প্রতীক ছিল টিয়া পাখী। ওই নির্বাচনে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১ হাজার ৪৭১। রাজিয়ার পরিবার আওয়ামী লীগপন্থী পরিবার। তিনিও ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগকে পছন্দ করেন। কিন্তু দলের সঙ্গে সেভাবে যুক্ত না। তাই দলীয় মনোনয়ন পাওয়া তার জন্য সহজ না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দলের কাছে মনোনয়না না চেয়েই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাধারণ কাউন্সিলর পদে সরাসরি নির্বাচন করছি।’
রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘পেশী শক্তি, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ভোটাররা মত প্রকাশের সুযোগ পেলে পেক্ষাপট পাল্টে যেতে পারে।’
তিনি বলেন, নারীদের এখন দুর্বল মনে করা ভুল। কিছু প্রার্থীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘পুরুষ প্রার্থীদের কর্মীরা নারী কর্মীদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। কয়েকজনকে আবার চোখ তুলে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমার ওপর নানাভাবে হামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রচার-প্রচারণায় কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে হচ্ছে।’
রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘নির্বাচিত পুরুষ কাউন্সিলররা নারীদের কথা ভাবে না, তারা নিজ এবং তাদের নিজস্ব বলয়ের কতিপয় ব্যক্তির সুবিধা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাই জয়ী হলে বঞ্চিত নারীদের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ সরকারের নারী উন্নয়নে বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবো।’
স্থানীয় অর্পণা আহমেদ বলেন, ‘রাজিয়া আগে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেছিলেন। জয়ী না হলেও তিনি অসহায় মানুষের পাশে ছিলেন। বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বই, খাতা কিনে দেওয়া, অসুস্থ মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করাসহ সামাজিক বিভিন্ন কাজে সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন।’







