সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। এতে প্রেসক্লাবের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত হন দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাতবারের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাবেক সভাপতি চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি মমতাজ আহমেদ বাপী, মোহনা টিভির জেলা প্রতিনিধি আবদুল জলিল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাতবারের সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারীসহ ১০ জন সিনিয়র সাংবাদিক। আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে শতাধিক সন্ত্রাসী ওই প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে প্রথমেই সিসিটিভি ক্যামেরার কানেকশন ছিঁড়ে ফেলে। এরপরই তারা লাটি, লোহার রড নিয়ে হামলা চালিয়ে সাংবাদিকদের মারধর করে।
নাম প্রকাশ না করে তারা আরও জানান, এ ঘটনার আগে প্রেসক্লাবের বাইরে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদকসেবী ও মাদক চোরাকারবারিকে মহড়া দিতে দেখা গেছে। এ সময় এসব অপরাধীদের সঙ্গে সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির দুই ভাই মীর মাহমুদ হাসান লাকি ও মাহি আলমকেও দেখা গেছে।
এদিকে, খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান, ওসি মোন্তাফিজুর রহমান এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা প্রেসক্লাবে আসেন।
তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। এসময় জেলা প্রশাসক জানান, হামলার শিকার সাংবাদিকরা মামলা করলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই কথা জানান পুলিশ সুপারও।
এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির কর্মকর্তাসহ অন্য সাংবাদিকরা। তারা শুক্রবার (৩১ মে) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব। এ ঘটনার আড়াই মাস পর গত বুধবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। আজ এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।







