রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে মীর মশাররফের স্মৃতি চিহ্ন

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া
০৮ জুন ২০১৯, ১১:৪২আপডেট : ০৮ জুন ২০১৯, ১১:৫৬

মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি পাঠাগার ও অডিটোরিয়াম বাংলা ভাষার অন্যতম গদ্যকার ও বাঙালি মুসলিম সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ মীর মশাররফ হোসেন। ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়ার কুমারখালির লাহিনীপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।  ২০০৮ তার জন্ম ভিটায় গড়ে তোলা হয় মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি পাঠাগার ও অডিটোরিয়াম। তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে তার স্মৃতিচিহ্নগুলো।

মশাররফ হোসেনের ব্যবহৃত পালকি বিষাদ সিন্ধুর রচয়িতা মীর মোশাররফের লেখাপড়ার জীবনের শুরু কুষ্টিয়ায়। এরপর ফরিদপুর ও কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে তিনি লেখাপড়া করেছেন। তার জীবনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় কেটেছে ফরিদপুরের নবাব এস্টেটে চাকরি করে। কিছুকাল তিনি কলকাতায়ও বসবাস করেন। মীর মশাররফের তার বহুমুখী প্রতিভার মাধ্যমে উপন্যাস, নাটক, কাব্য ও প্রবন্ধ রচনা করে আধুনিক যুগে মুসলিম রচিত বাংলা সাহিত্যে সমৃদ্ধ ধারার প্রবর্তন করেন। ১৯১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এরপর ২০০৮ সালে কুমারখালি লাহিনীপাড়া গ্রামে ৭ শতক জমির ওপর  তার বসতভিটায় গড়ে তোলা হয় মীর মশাররফের স্মৃতি পাঠাগার ও অডিটোরিয়াম। এখানে তার জীবদ্দশায় ব্যবহার্য প্রায় ১২২টি সামগ্রী রয়েছে। এরমধ্যে আয়না, সুরমা দানি, আতর দানি, কলের গান, তালা-চাবি, হুক্কা, ঘড়ি, গুগলি (পান পাত্র), কুয়ার পানি ওঠানোর কাটা, খাবার প্লেট, ইজি চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ, পালকি, ফলের রস রাখার পেয়ালা ইত্যাদি। এসব সামগ্রীর বয়স প্রায় দেড়শ বছর।

মশাররফ হোসনের ব্যবহৃত আয়না স্মৃতি পাঠাগার ও অডিটোরিয়ামে সপ্তাহে ৫ দিন বিনামূল্যে ঘুরে দেখতে পারেন দর্শনার্থীরা। এখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৩০০ দর্শনার্থী ঘুরতে আসেন।

মশাররফ হোসেনের ব্যবহৃত বেঞ্চ স্মৃতি পাঠাগার ও অডিটোরিয়ামের তত্ত্বাবধায়ক মীর মাহবুব উল আরিফ বলেন, ‘মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি পাঠাগারটি আসলে অডিটোরিয়াম হিসেবে তৈরি হয়েছে। এটি জাদুঘরের আদলে তৈরি হাওয়া দরকার। না হলে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে তার স্মৃতি চিহ্ন।  সামগ্রীগুলো খোলা স্থানে রাখার ফলে দিন দিন এর স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে।’

মশাররফ হোসেনের ব্যবহৃত চেয়ার তিনি আরও বলেন, বর্তমানে স্মৃতি পাঠাগারটি জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনে নিলে রক্ষণাবেক্ষণ আরও ভালো হতো। স্মৃতি পাঠাগারটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনে নেওয়ার জন্য প্রায় ৭ বার আবেদন করা হয়েছে। তারা তিনবার পরিদর্শন করে গেছে। কিন্তু এখনও এটি তাদের অধীনে নেওয়া হয়নি।

 

 

 

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২৩ জানুয়ারি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২৩ জানুয়ারি
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা
এলডিসি উত্তরণের পর মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় শক্তিশালী কাঠামোর তাগিদ
এলডিসি উত্তরণের পর মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় শক্তিশালী কাঠামোর তাগিদ
‘গাজী নজরুল ইসলাম সম্পূর্ণ নির্দোষ, এটা একটা দুর্ঘটনা’, দাবি আইনজীবীর
‘গাজী নজরুল ইসলাম সম্পূর্ণ নির্দোষ, এটা একটা দুর্ঘটনা’, দাবি আইনজীবীর
সর্বাধিক পঠিত
নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী, সফরসঙ্গী কারা?
নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী, সফরসঙ্গী কারা?
‘নিজেকে শেষ করার’ আগে চিরকুটে কষ্টের কথা লিখে গেছেন মরিয়ম
‘নিজেকে শেষ করার’ আগে চিরকুটে কষ্টের কথা লিখে গেছেন মরিয়ম
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে
সরকারি চাকরিজীবীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্ত্রী বা স্বামী, তবে....
সরকারি চাকরিজীবীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্ত্রী বা স্বামী, তবে....
অপ্রতিম হত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়ে যা জানিয়েছে তিন আসামি 
অপ্রতিম হত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়ে যা জানিয়েছে তিন আসামি