খুলনায় গত ২ মাসে তিনটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫ পুলিশসহ আসামি রয়েছে ১৮ জন। এর মধ্যে মাত্র ৩ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকি ১৫ জনই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ বলছে, পুলিশের সদস্যরা বাদে বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
প্রথম সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে ২৯ জুন মহানগরীর বিহারি কলোনিতে। এক স্কুলছাত্রীকে শান্ত বিশ্বাস নামের এক যুবক তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ভিডিও করে। এ ঘটনায় ৩০ জুন সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ১০ জনের নামে নারী শিশু নির্যাতন দমন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।
খুলনার আলোচিত সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ২ আগস্ট রেলওয়ে (জিআরপি) থানায়। মোবাইল চুরির অভিযোগে জিআরপি পুলিশ এক গৃহবধূকে আটকের পর থানা হাজতে রেখে ধর্ষণ করে অভিযোগ করেন তিনি। ওই গৃহবধূর করা মামলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠানসহ পুলিশের পাঁচ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার ২৩ দিন পরও কোন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে, দায়িত্ব অবহেলা ও পুলিশ বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্নের অভিযোগে ওসি উছমান গণি ও এসআই নাজমুল হককে ক্লোজড করা হয়।
কুষ্টিয়ার রেলপুলিশ এএসপি ও জিআরপি থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘জিআরপি থানায় ধর্ষণের ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশ সদস্যদের গ্রেফতার করার মতো এখনও পর্যন্ত কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
সর্বশেষ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ২৩ আগস্ট মহানগরীর মিনাপাড়া মিকুশিস স্কুলপাড়া এলাকায়। পুলিশ ওই ঘটনায় ৩ যুবককে গ্রেফতার করেছে। সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমতাজুল হক জানান, স্বামী পরিত্যক্তা নারীর সঙ্গে স্থানীয় সৌরভের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২৩ আগস্ট রাত ৯টায় মিনাপাড়া মিকুশিস স্কুলপাড়া এলাকায় ওই নারীকে বাড়ির ছাদে নিয়ে সৌরভ ধর্ষণ করে। ঘটনার প্রতিবাদ করলে সৌরভের সহযোগিরা ওই নারীকে মারধর করে। এ ঘটনায় ২৪ আগস্ট তিনি ধর্ষণ মামলা করেন। এই ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুইজনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) সূত্রে জানা গেছে, জুলাই ও আগস্টের ২৫ তারিখ পর্যন্ত ওসিসিতে ধর্ষণের ১৮ জন ভিকটিমকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ধর্ষণের শিকার হয়ে ৩ জন ওসিসিতে ভর্তি রয়েছেন।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা মানবাধিকার এর খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মোমিনুল ইসলাম বলেন, সামাজিক অবক্ষয় চরমে পৌঁছেছে। বাবা-মার অবহেলা, সঠিক মনিটরিং ও নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শাসন না থাকা ও সন্তানদের ওপর অতি বিশ্বাসই এ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় সংঘঠিত ঘটনার বিচারে দীর্ঘসূত্রিতার ফলে এ সব ঘটনা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোন প্রভাব ফেলতে পারছে না।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি থানা এলাকায় এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাছাড়া থানা এলাকায় পুলিশের নজরদারি রয়েছে। কেউ অপরাধ করে পার পাবে না।







