খুলনায় পোল্ট্রি মুরগি ও ডিমের উৎপাদন বেড়েছে। একই সঙ্গে পাইকারি বাজারে কমেছে দাম। কিন্তু খুচরা বাজারে যার কোনও প্রভাব নেই। বাজার মনিটরিং না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন পোল্ট্রি ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়া এবং পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধানের কারণে এ ব্যবসায় ধস নামার শঙ্কা করছেন পোল্ট্রি মালিকরা।
তারা মনে করছেন, বিদেশি বড় প্রতিষ্ঠানকে পোল্ট্রি ব্যবসার অনুমতি দেওয়ায় ছোট উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
খুলনা পোল্ট্রি ফিশ ফিড শিল্প মালিক সমিতির দাবি, পাইকারিতে পোল্ট্রি ও ব্রয়লার মুরগির মাংস প্রতিকেজি ৮৫ টাকা, ডিম প্রতিটি ৬ টাকা (হালি ২৪ টাকা), একদিনের বাচ্চা ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৩৫-১৪০ টাকা কেজি, সাদা লেয়ার ২২০ টাকা, লাল লেয়ার ২৫০ টাকা, কক ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৩৫০-৪০০ টাকা, প্রতিহালি দেশি মুরগির ডিম ৪০ টাকা ও ফার্মের ডিম হালিপ্রতি ৩২-৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জিএম নাসিরউল্লাহ বলেন, উৎপাদন বেশি হওয়া এবং বাজার মূল্য কম হওয়ায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। উৎপাদিত অতিরিক্ত পণ্য রফতানি, খামার রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং উৎপাদন,সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের সরাসরি অংশগ্রহণের দাবি জানান তিনি।
খুলনা পোল্ট্রি সমিতির মহাসচিব এসএম সোহরাব হোসেন জানান, পোল্ট্রি খাবার থেকে শুরু করে এ ব্যবসার সব পণ্যে রয়েছে লাগামহীন দাম। কিন্তু উৎপাদিত ডিম, মাংস বিক্রি করে সেই খরচ ওঠাতে হিমশিম খাচ্ছি আমরা। ফলে লসে পড়ছেন উদ্যোক্তারা।
পাইকারি ডিম বিক্রেতা নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা যে দামে কিনি, তার থেকে ৫-১০ পয়সা লাভে বিক্রি করি। উৎপাদন খরচ নিয়ে আমরা চিন্তা করি না। তবে শহর এলাকার মানুষ বেশি কেনে ডিম। ডিমের দাম বাড়লে বিক্রি আবার কমে যায়।’
মহানগরীর জোড়াকল বাজার এলাকার বিউটি পাল জানান, শীতের সময় পোল্ট্রি মুরগি ও ডিমের দাম একটু কম থাকে। তখন একটু কিনে খেয়ে শান্তি ও স্বস্তি পাওয়া যায়। আর বছরের বাকি সময় তো এগুলোর দাম বেশি থাকে।
খুলনা জেলার অতিরিক্ত প্রাণী অফিসার ডা. অরুন কান্তি মণ্ডল বলেন,খুলনা জেলায় ২৯৩৫টি খামার রয়েছে। এর মধ্যে ব্রয়লার খামার ১৯৩৪টি ও লেয়ার ১০০১টি। পাইকারি ও খুচরা দামের ক্ষেত্রে বিস্তর পার্থ্যক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা তদারকিতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা দরকার হয়। কিন্তু সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী। আর এ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য দায়িত্বশীল অফিসগুলোতে জনবল সংকট থাকায় যথাযথভাবে অভিযান করা যাচ্ছে না।








