করোনার কারণে বাধাগ্রস্ত বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব

বেনাপোল প্রতিনিধি
২২ জুলাই ২০২০, ১৮:১১আপডেট : ২২ জুলাই ২০২০, ২০:৪১

সোনালী ব্যাংক বেনাপোল শাখায় ভ্রমণ কর জমা দিচ্ছেন যাত্রীরা যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত ভ্রমণকারী দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কাছ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৬৭ কোটি ৪৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৪ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ১২ লাখ ৫৪ হাজার ২৬৩ জন যাত্রী ভারতে গেছেন। এদের কাছ থেকে বেনাপোল সোনালী ব্যাংক ৪৭ কোটি ৪৬ লাখ ২২ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করেছে।

তবে করোনার কারণে গত মার্চ মাসের শেষদিক থেকে যাত্রী যাতায়াত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে কমেছে। বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার মো. আক্তার ফারুক যাত্রী পরিসংখ্যান ও রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভারতগামী যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণ কর আদায়ে কাজ করে বেনাপোল সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যাত্রীপ্রতি সরকার নির্ধারিত ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর এবং বন্দরের ট্যাক্স বাবদ ৪২ টাকা ৮৫ পয়সা আদায় করা হয়। যেসব যাত্রী ভারতে গেছেন তাদের মধ্যে শতকরা ৯০ জন বাংলাদেশি। বাকিরা ভারতসহ অন্যান্য দেশের নাগরিক।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আহসান হাবিব জানান, এ পথ দিয়ে ভারতে যাত্রী যাতায়াত যত বাড়বে সরকারি রাজস্ব আদায় তত বাড়বে। করোনার কারণে চলতি বছরের ১৩ মার্চ থেকে কোনও যাত্রী ভারতে প্রবেশ করতে পারিনি। সে কারণে রাজস্ব আয়ও থমকে গেছে। ভারতে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক হলে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি পূরণ হবে বলে আশা করা যায়।

বন্দর ও ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সাল থেকে বৈধভাবে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ভারতে যাতায়াত শুরু হয়। বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। বেনাপোল থেকে রওনা দিয়ে ট্রেন ও বাসযোগে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় কলকাতা শহরে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এই পথে চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণকারীরা যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বর্তমানে বেনাপোল স্থলপথের পাশাপাশি রেলপথেও যাত্রীরা ভারত যাতায়াত করেন।

করোনা প্রতিরোধে ভারত সরকার ১৩ মার্চ থেকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ভারতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি ও ভিসা স্থগিতের পর ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস, খুলনা-কলকাতা বন্ধন ট্রেন সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর ২২ মার্চ ভারতে জনতার কারফিউ জারি করা হয়। ২৩ মার্চ থেকে দফায় দফায় লকডাউন বাড়িয়ে ৩১ জুলাই পর্যন্ত করা হয়। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যেসব যাত্রী ভারতে অবস্থান করছেন তারা চাইলে এ সময়ে বেরিয়ে আসতে পারবেন। ভারতীয় পাসপোর্টধারী যারা বাংলাদেশ আছেন তারাও ফিরে যেতে পারবেন। তবে নতুন করে কোনও পাসপোর্টধারীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতের ওপরে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে ২৭ মার্চ রাত থেকে। তবে কূটনীতিক, অফিসিয়াল, জাতিসংঘ-আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন প্রকল্পের ভিসাধারীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আয় হলেও এখানে যাত্রীসেবা বাড়েনি। অবকাঠামো উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও আজও বাস্তবায়ন হয়নি। সেবার নামে বন্দরে ট্যাক্স আদায় করা হলেও তেমন কোনও সেবা দেওয়া হয় না যাত্রীদের। করোনাকালের আগেও ইমিগ্রেশনে যাত্রী ছাউনি না থাকায় যাত্রীদের রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেতো।

/আরআইজে/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী