বেড়িবাঁধ ফুটো হয়ে ঢুকছে লোনা পানি, কয়রায় আতঙ্ক

খুলনা প্রতিনিধি 
২৯ এপ্রিল ২০২১, ০৯:২২আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২১, ০৯:২২

খুলনার কয়রা উপজেলায় বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ছিদ্র দিয়ে লোনা পানি প্রবেশ করেছে। দশালিয়া থেকে হোগলা পর্যন্ত কপোতাক্ষ নদীর প্রায় তিন কিলোমিটার বাঁধের অধিকাংশ জায়গা জরাজীর্ণ। ফলে গত বছরের ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষত শুকিয়ে উঠার আগেই যে কোনও মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এলাকার মানুষ ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা, মাছের ঘের, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য সংগ্রাম করছেন প্রতিনিয়ত। তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গত বছরের ২০ মে আম্পানের আঘাতে জোয়ারের পানির চাপে দশালিয়ার বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। ১১ মাস অতিবাহিত হলেও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বরাদ্দ হলেও টেকসই বাঁধ তৈরিতে গড়িমাসি করছে একটি মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়রার দশহালিয়া থেকে হোগলা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার বাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জোয়ারের পানি বাঁধের বিভিন্ন স্থান দিয়ে চুইয়ে ও ছোট-বড় ছিদ্র দিয়ে এলাকায় প্রবেশ করছে। পানি বন্ধের জন্য ২৭ এপ্রিল কিছু মানুষকে কাজ করতে দেখা যায়। আবার মৎস্য ঘেরে নদী থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি উঠানো হচ্ছে। ফলে ঝুঁকি আরও বাড়ছে। কয়রায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয় ও ফসলি জমি তলিয়ে যায় গতবছর

স্থানীয় মাছ চাষি মতিয়ার রহমান বলেন, বাঁধ নিয়ে চিন্তিত। যে কোনও মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে নদী ও তার ঘের একাকার হয়ে যেতে পারে। এছাড়া বাঁধ ভাঙলে কয়েকটি গ্রাম পানিতে ভেসে যাবে।

আরেক মাছ চাষি নাসির জানান, গত বছর আম্পানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তার দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখনও সে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তিনি লিজ নিয়ে ঘের (মৎস্য চাষ) করেন। এবার ভেঙে গেলে তাকে বড় ধরনের ক্ষতিতে পড়তে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, বাঁধ মেরামতে সরকারি বরাদ্দ হয়েছে। তবুও কাজ করতে গড়িমসি হচ্ছে। ফলে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও মশিউল আবেদীন বলেন, পানি প্রবেশের সংবাদ শুনেছি। তাৎক্ষণিক পানি বন্ধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আশা করি কোনও সমস্যা হবে না। এছাড়া ১৪ ফুট রাস্তা চওড়া করে ৪৮০ মিটার রাস্তার কাজও চলমান রয়েছে। অপরদিকে জাইকার অর্থায়নে হোগলা থেকে এক কিলোমিটার রাস্তার কাজ করা হবে।

উল্লেখ্য, উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ উপচে গত বছরের এপ্রিল মাসে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে পানি প্রবেশ বন্ধ করেন। কিন্তু ২০ মে আম্পানে শেষ রক্ষা করতে পারেননি। বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। এর আগে ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার সময়ও ওই এলাকার বাঁধ ভেঙে লোনা পানিতে বড় রকমের ক্ষতি হয়।

/এফএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী