যশোর আদালতে যাওয়ার পথে আইনজীবীর কাছ থেকে রাজু বিশ্বাস ওরফে টুটু (৩৫) নামের হত্যা মামলার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে পুলিশের দাবি, ওই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রবিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের মুজিব সড়কে জেলা জজ কোর্টের সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।
আইনজীবী তাজমিলুর রহমান সরদার স্বপন বলেছেন, ৫-৬ জন সাদা পোশাকের লোক হঠাৎ করেই সেখানে উপস্থিত হন এবং জোর করেই আমার মক্কেলকে তুলে নিয়ে যান।
পুলিশের দাবি, হত্যা মামলার আসামি রাজুকে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল। সকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান নির্ণয় করে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়নি।
তবে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলার আইনজীবী, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, প্রেস ক্লাব সভাপতি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে জানিয়েছেন তাজমিলুর রহমান।
রাজু বিশ্বাস যশোরের অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী গ্রামের ভ্যানচালক শুকুর আলী হত্যা মামলার একমাত্র আসামি।
আইনজীবী তাজমিলুর রহমান বলেন, রাজু বিশ্বাস আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আমার কাছে এসেছিলেন। ওকালতনামা স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি শেষে তাকে নিয়ে আইনজীবী সমিতি থেকে আদালতে যাচ্ছিলাম। জজ কোর্টের সামনের রাস্তায় পৌঁছাতেই ৫-৬ জনের একদল লোক আমাদের ঘিরে ধরে। এরপর ধস্তাধস্তি করে রাজু বিশ্বাসকে একটি রিকশায় উঠিয়ে নিয়ে যায়। আমি নিজের পরিচয় দিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা।
তিনি বলেন, আদালতে গিয়ে প্রথমে বিচারককে বিষয়টি জানাই। এরপর যশোরের পুলিশ সুপার, প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে বিষয়টি জানিয়েছি।
তারা কারা হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তাদের কাউকে চিনতে পারিনি। সবাই সাদা পোশাকে ছিলেন।
জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা আমার জানা নেই। বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। থানা পুলিশের কেউ এ ধরনের কোনও অভিযান পরিচালনা করেনি।
তবে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা অভয়নগর থানার একটি হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতার করেছি। দুই মাস ধরে আমরা খুঁজছি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বেলা পৌনে ১১টার দিকে যশোর শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে আসামি অভয়নগর থানা হেফাজতে রয়েছে। আগামীকাল সকালে আদালতে পাঠানো হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আসামিকে আইনজীবী সমিতি বা আদালত চত্বর থেকে ধরিনি। রাস্তা থেকে গ্রেফতার করেছি। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল।
প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল রাজু বিশ্বাসের ভ্যান-রিকশা মেরামতের দোকানে যান শুকুর আলী নামের এক ব্যক্তি। এরপর তিনি নিজের ভ্যান মেরামত করান। মজুরির ৩০ টাকার কাজ শেষে সন্ধ্যায় ফেরার পথে দেওয়ার কথা বলে শুকুর আলী চলে যান। রেঞ্চ
সন্ধ্যায় ফেরার পথে রাজু বিশ্বাস তার কাছে পাওনা টাকা চাইলে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাজু বিশ্বাস তার হাতে থাকা রেঞ্জ দিয়ে শুকুর আলীর মাথায় আঘাত করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শুকুর আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে রাজু বিশ্বাসের নামে মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে রাজু বিশ্বাস পলাতক ছিলেন।









