যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদেরও ফাঁসি চান আবরারের মা

খুলনা ও কুষ্টিয়া প্রতিনিধি 
০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬:০৯আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭:০৬

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবরারের মা রোকেয়া খাতুন। তবে তিনি যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিদেরও ফাঁসি চান।

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) রায় ঘোষণাকালে কুষ্টিয়ার নিজ বাসভবনে ছিলেন আবরার ফাহাদের মা ও ছোট ভাই। তারা টেলিভিশনের সামনে বসে রায়ের খবর শুনছিলেন। এ সময় মা রোকেয়া খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন। কুষ্টিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা তখন আবরারের বাড়িতে ছিলেন।

কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডে আবরার ফাহাদের বাড়িতে তার মা রোকেয়া খাতুন রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট। তবে বাকিদেরও ফাঁসি চাই। দেশবাসী দেখেছে ২৫ জন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। আমি চাই যে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে তাদের তো হবেই এবং বাঁকি পাঁচ জনেরও মৃত্যুদণ্ড হোক। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অমিতের যেন ফাঁসি হয়। রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়। নির্মমভাবে আমার সন্তানকে যারা খুন করেছে তাদের ফাঁসি দেখে যেন আমি মরতে পারি। ’

রোকেয়া খাতুন বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমি ওকে (আবরার) নিজে হাতে বুয়েটে দিয়ে আসছিলাম। আমার শান্ত-ভদ্র ছেলেটা কোথায় চলে গেছে? আমার ছেলে ওদের কী ক্ষতি করেছিলো? ওকে হত্যা না করে কেন আমাকে ফেরত দিলো না। ও পড়তো না। তবুও আমার বুকে থাকতো।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে আমাকে ছাড়া বাইরে যেত না। আমার ছেলেকে ওরা কেমন করে পিটায়ে মারলো? আমি শুধু দিন যায়, রাত যায় ওর পায়ের দাগগুলো দেখি। যে ছেলেকে আমি একটা আঘাত করিনি। আর সেই ছেলের পায়ে কত পেটানোর দাগ। আমি ছেলের মৃত্যুর পর থেকে আল্লাহর কাছে চেয়েছি, যারা আমার ছেলেকে এত কষ্ট দিয়ে মেরেছে তুমি তাদের বিচার করো।’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো—মেহেদী হাসান রাসেল, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মুজাহিদুর রহমান, মনিরুজ্জামান মনির, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুল ইসলাম, শামীম বিল্লাহ, এএসএম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, এসএম মাহমুদ সেতু, মোস্তবা রাফিদ ও মোর্শেদ অমত্য ইসলাম।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলো—মুহতাসিম ফুয়াদ, ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, আকাশ হোসেন, অমিত সাহা ও মোয়াজ আবু হুরায়রা।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে আবরার ফাহাদকে তার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যান বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তাদের বিরুদ্ধে ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। পরে রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই বছরের ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ ২২ জনকে গ্রেফতার করে। এরমধ্যে আট জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদের সবাই বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

/এফআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
গড়াই নদীর ওপর শহীদ আবরার ফাহাদের নামে সেতুর দাবিতে সমাবেশ
আবরার ফাহাদের মৃত্যু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বড় প্রেরণা: তথ্য উপদেষ্টা
শহীদ আবরার ফাহাদ স্মরণে ছাত্রদলের আলোচনা সভা
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম