যুদ্ধকবলিত ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে হামলার শিকার হয়েছে বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। এতে মারা গেছেন এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। জাহাজে জীবিত থাকা বাকি ২৮ জনের মধ্যে ক্যাপ্টেন মনসুরুল আলম খান (৩৬) একজন। তার বাড়ি সাতক্ষীরা শহরের নারকেলতলা এলাকায়।
বন্দরে আটকে পড়ার পরই বাড়িতে খবর পাঠান মনসুরুল আলম। এরপর থেকে তার মা, বাবা, স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ স্বজনরা শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। এরপর গত ২ মার্চ জাহাজে রকেট হামলার খবর পাওয়ার পর থেকে কেঁদেই যাচ্ছেন তারা।
নারকেলতলা এলাকার অবসরপ্রাপ্ত বিআরডিসি কর্মকর্তা সেলিম খানের ছেলে মনসুরুল আলম খান। এলাকায় তিনি ‘গিনি’ নামেই পরিচিত।
সেলিম খান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় বাড়িতে কথা বলে গিনি। আমাদের জানিয়েছে, সেই ভালো আছে। সন্ধ্যার দিকে অলভিয়া বন্দরে তাদের নামানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই আছে। কিন্তু তার জন্য বাড়ির সবাই খুব চিন্তিত। ওর মা ও স্ত্রী সারাদিন কান্নাকাটি করছে।’
আরও পড়ুন: আরিফের লাশ ফেরত আনার দাবি স্বজনদের
তিন ছেলে রয়েছে ক্যাপ্টেন মনসুরুল আলমের। তাদের মধ্যে ফাহিমি ও ফারহান (১০) যমজ। তারা চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট ছেলে ফারদিনের বয়স তিন বছর।
সেলিম খান জানান, ২০০৬ সালে জাহাজের ক্যাপ্টেন পদে চাকরি জীবন শুরু করেন গিনি। সবশেষ তিন মাস আগে বাড়িতে এসেছিলেন। ৬-৭ মাস পর পর বাড়িতে আসেন। ইউক্রেনে গিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়বে, এটা কেউ ধারণা করেনি। জাহাজে রকেট হামলার পর বৃহস্পতিবার প্রথম কথা হয়েছে। সেখানে খাবারের সমস্যা হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার পাচ্ছেন জাহাজে আটকা পড়া বাংলাদেশিরা। নেটওয়ার্ক ও ফোনে চার্জ না থাকায় খুব বেশি যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না।
সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিপিং অফিস থেকে যোগাযোগ করে বলেছে, ‘আমরা উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছি, আপনারা দুশ্চিন্তা করবেন না’। সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইউক্রেনিরা মাইন বসিয়ে রাখায় জাহাজটি বের হতে পারেনি।
বড় ছেলে ফারহান বলে, ‘জাহাজে ২৯ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আব্বু বেঁচে আছেন। সেখানে খাবারের কষ্ট হচ্ছে, অল্প খাচ্ছেন। বাড়ির সবার মন খারাপ। আব্বুকে ফিরিয়ে আনুন আপনারা।’
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির বলেন, বিষয়টি শুনেছি জাহাজের ক্যাপ্টেন একজনের বাড়ি সাতক্ষীরায়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশি জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দরে পৌঁছায়। ওই দিনই দেশটিতে রাশিয়ার হামলা শুরু হয়। পরে বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। জাহাজটি নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারেনি। জাহাজে আটকা পড়েন ক্যাপ্টেন জি এম নুর ই আলম, চিফ ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুকসহ ২৯ বাংলাদেশি নাবিক।
ইউক্রেনে হামলা শুরুর সপ্তম দিনে ২ মার্চ রকেট হামলায় জাহাজে আগুন লাগে। এতে ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান আরিফ মারা যান। তিনি বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি থেকে ২৮ জন নাবিক ও ইঞ্জিনিয়ারকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় বাঙ্কারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিরাপদে হিমাগারে রাখা হয়েছে হাদিসুর রহমানের মরদেহ।








