X
রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২
১৬ আশ্বিন ১৪২৯

আসামি না হয়েও জেল খাটলেন সাইদ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
১৬ জুলাই ২০২২, ০৫:০১আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২২, ০৫:০১

কোনও মামলার আসামি না হয়েও নামের মিল থাকায় জেল খাটলেন নিরপরাধ দাবি করা আবু সাইদ।  চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানা এলাকার দোস্ত গ্রামের সিরাজ প্রধানের ছেলে আবু সাইদের নামের সঙ্গে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক এক আসামির নাম ঠিকানায় মিল থাকায় জেল খাটতে হয়েছে তাকে। গত মঙ্গলবার সাইদকে গ্রেফতার করে দর্শনা থানা পুলিশ। পরদিন আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করলে জেলখানা থেকে মুক্ত হন আবু সাইদ। অথচ মামলার এজাহারে প্রকৃত আসামির নাম সাইদুর রহমান (২৫) উল্লেখ রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর বোয়ালমারি পাড়ার আব্দুর রফিকের ছেলে আবুবক্কর সিদ্দিক মুদি দোকানের মালামাল কেনার জন্য বাড়ি থেকে দর্শনার দিকে আসছিলেন। এসময় তিনি আমতলা মোড়ের ফারুক হোসেনের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দোস্ত মোল্লাপাড়ার মসলেম উদ্দিনসহ কয়েকজন তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ঘটনার পরপরই আহত বাক্কাকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এবং রাতে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করে দায়িত্বরত চিকিৎসক। 

এ ঘটনায় সে বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর বাক্কার স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন বাদী হয়ে মৃত জব্বার মোল্লার ছেলে মসলেম, সিরাজের ছেলে সাঈদ, জসিম মোল্লার ছেলে আইয়ুব আলী, ইলয়াস টাকের ছেলে দরুদ আলী ও সাদেক বাচ্চুর ছেলে পান্নু খাঁকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন (জি আর ৩৬৪/১২)। মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) রবিউল ইসলাম দীর্ঘ তদন্তের পর ২০১৩ সালের ২৭ জুন আইয়ুব মোল্লা, দরুদ ও পান্না খাঁকে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় মামলা থেকে অব্যাহতি দেন এবং মসলেম, সাঈদ, সাইদুর রহমান ওমর আলীকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। প্রতিবেদনে সাঈদের বাবার নাম সিরাজ ও অপর সাইদুর রহমানের পিতার নাম ইদু মিয়া মণ্ডল উল্লেখ আছে।

এদিকে, সদর উপজেলা ও দর্শনা থানা এলাকার দোস্ত গ্রামের সিরাজ প্রধানের ছেলে আবু সাইদ (৪২) ঈদ করতে ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে আসেন।  মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দর্শনা থানার এএসআই হাফিজ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। একদিন জেল খেটে পরের দিন আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর হলে বাড়িতে ফেরেন।

মুক্ত হয়ে আবু সাইদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে যখন পুলিশ গ্রেফতার করে তখন হাজারও বার বলেছি আমি কোনও মামলার আসামি না। আমার নাম সাইদুর রহমান না। এই দেখেন আমার জাতীয় পরিচয়পত্র। তবে তারা কোনও কথায় কর্ণপাত করেননি। কোনও মামলার আসামি না হয়েও আমাকে একদিন জেল খাটতে হলো। একইসঙ্গে জামিন হতে ছয় হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এমন কি থানায় গিয়ে একই কথা বলেছি তাতেও কাজ হয়নি; উল্টো পুলিশের ধমক খেতে হয়েছে। জামিন নিয়ে দর্শনা থানায় গিয়েও খুব একটা লাভ হয়নি।’

এদিকে সিরাজ প্রধানের ছেলে আবু সাইদ মামলার আসামি নন বলে নিশ্চিত করেছেন হামলার শিকার আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘আমার মামলার আসামি দোস্ত গ্রামের বসুতিপাড়ার ইদুর ছেলে সাইদুর রহমান, আমতলা পাড়ার সিরাজ উদ্দিন ওরফে সিরুর ছেলে সাইদুর রহমান। সিরাজ প্রধানের ছেলে আবু সাইদ মামলার আসামি না। কেন তাকে পুলিশ গ্রেফতার কররো আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে জানতে দর্শনা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হাফিজ দাবি করেন, সঠিক ব্যক্তিকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। 

দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএইচএম লুৎফুল কবীর বলেন, আসামির নাম, বাবার নাম ও একটি ঠিকানার সঙ্গেও মিল রয়েছে। সে হিসেবেই সাইদকে গ্রেফতার করা হয়। জামিন পাওয়ার পর তিনি নাম বিভ্রাটের দাবি তুলেছেন। যার কোনও ভিত্তি নেই।

 

/টিটি/
সম্পর্কিত
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
যতদিন তোরা আছিস, ততদিন আমি আছি: জেমস
শুভ জন্মদিনযতদিন তোরা আছিস, ততদিন আমি আছি: জেমস
পদ্মা সেতুর আদলে সেজেছে পূজামণ্ডপ 
পদ্মা সেতুর আদলে সেজেছে পূজামণ্ডপ 
শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার
শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার
‘মানবাধিকারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র’
‘মানবাধিকারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র’
এ বিভাগের সর্বশেষ
পদ্মা সেতুর আদলে সেজেছে পূজামণ্ডপ 
পদ্মা সেতুর আদলে সেজেছে পূজামণ্ডপ 
ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফির আদলে পূজামণ্ডপ
ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফির আদলে পূজামণ্ডপ
‘দেশে এখন মঙ্গা নেই, খাবারের অভাব নেই’
‘দেশে এখন মঙ্গা নেই, খাবারের অভাব নেই’
‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের’ মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলেন বাবা-ছেলে
‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের’ মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলেন বাবা-ছেলে
ঘরে মা ও দুই ছেলের লাশ, মৃত্যু হয়েছে ৪-৫ দিন আগে
ঘরে মা ও দুই ছেলের লাশ, মৃত্যু হয়েছে ৪-৫ দিন আগে