কয়রায় অসময়ে শিম চাষে সাফল্যের পর লবণাক্ত জমিতে তরমুজ চাষেও সফলতা পেয়েছেন প্রভাষক শাহাবাজ আলী। মৌসুম যখন শেষ, তখনই বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরামর্শে তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। আগস্টে তার জমির মাচার ফাঁকে ঝুলছে বারি-১ জাতের তরমুজ। ৪০ শতাংশ জমিতে উৎপাদিত তরমুজ ইতোমধ্যে বাজারজাত করেছেন তিনি।
সম্প্রতি তার জমির মাচার ফাঁকে অসংখ্য তরমুজ ঝুলে থাকার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকে প্রতিদিনই আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ তার তরমুজ বাগান দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন।
শিক্ষক শাহাবাজ বলেন, ফজরের নামাজ পড়ে ২ ঘণ্টা কৃষি জমি দেখাশোনা করি। পরে কলেজ থেকে ফিরে বিকালে আবারও জমিতে সময় দেই।
তিনি জানান, অসময়ের তরমুজ চাষে কয়রার কৃষি গবেষণা বিভাগের বৈজ্ঞানিক সহকারী জাহিদ হাসান উদ্বুদ্ধ করেন। গত জুনের প্রথমেই পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মাদায় বারি-১ জাতের ৬০০ তরমুজ বীজ রোপণ করেন। রোপণের ৮০ দিন পর থেকে ফল উত্তোলন করেছেন। অসময়ের তরমুজ অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা থাকায় ভালো দাম পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
শাহবাজ আলী বলেন, ‘প্রতিটি তরমুজ গড়ে ৬ থেকে ৮ কেজি ওজন হয়েছে। প্রতি কেজি পাইকারি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।’ বেকার যুবকরা সময় নষ্ট না করে এমন অসময়ের ফসলে ভালো আয় করতে পারেন বলে পরামর্শ দেন তিনি।
কয়রা উপজেলা কৃষি অফিসার আছাদুজ্জাামন বলেন, সম্প্রতি সরেজমিনে প্রভাষকের তরমুজ ক্ষেতের মাচায় তরমুজ ঝুলতে দেখে অনেকটা আশ্চর্য হয়েছি।
সম্প্রতি লবণাক্ত জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ পরিদর্শন করেছেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হারুনর রশিদ। তিনি বলেন, বারি তরমুজ-১ হাইব্রিড না হওয়ায় কৃষকরা তরমুজ খেয়ে নিজেরা বীজ সংরক্ষণ করতে পারবেন। দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়েও সুস্বাদু, অধিক পরিমাণে এবং বড় ধরনের তরমুজ উৎপাদনের সাফল্য দেখে আমি মুগ্ধ। এর বাণিজ্যিক চাষে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।









