সাতক্ষীরায় চা বিক্রেতা ইয়াছিন আলীর মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জাকির হোসেন (৫০) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের কামালনগর এলাকার একটি সেতুর নিচ থেকে খণ্ডিত মস্তক উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
জাকির হোসেনের বাড়ি খুলনায়। তিনি সাতক্ষীরা শহরের গড়েরকান্দা এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন: চা বিক্রেতার লাশ উদ্ধার, খুঁজে পাওয়া যায়নি মস্তক
র্যাব-৬ এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোসতাক আহমদ জানান, গত বুধবার (৩১ আগস্ট) সকালে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়কের বকচরা এলাকা থেকে ইয়াছিনের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেন র্যাব সদস্যরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দিবাগত রাতে জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সকালে ইয়াছিনের খণ্ডিত মস্তক উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকের জানান, ইয়াছিনের কাছে ব্যবসায়িক লেনদেনের ২০ হাজার টাকা পাওনা ছিল তার। কয়েকবার তাগাদা দিয়েও টাকা পাননি। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ইয়াছিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। নতুন ব্যবসার কথা বলে গত ৩০ আগস্ট একটি ভ্যানে তাকে শহরের বাইপাস সড়কে নিয়ে যান। গল্প করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন জাকির। রাত গভীর হলে ১২টার পর সুযোগ বুঝে ইয়াছিনের গলায় দা দিয়ে আঘাত করেন। পড়ে গেলে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। একপর্যায়ে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন লাশ টেনে সড়কের পাশে জলাশয়ে ফেলে দেন। আর মাথা নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি কালভার্টের নিচে বস্তাবন্দি করে ফেলে চলে যান জাকির।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ আগস্ট সকালে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ শহরের বকচরা এলাকায় বাইপাস সড়কের পাশে একটি জলাশয় থেকে চা বিক্রেতা ইয়াছিনের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তাসলিমা খাতুন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।









