বন্ধুকে টিকিট কেটে ট্রেনে উঠিয়ে দিতে এসেছিলেন যশোরের মেয়ে ফারহানা সুলতান। সে সময় প্লাটফর্মে বঙ্গবন্ধু, ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধের নানা স্লোগান ও ছবিসহ একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। পরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বন্ধু আসমাউল হুসনা নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর। এখানে বঙ্গবন্ধুর জীবনকালের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্থির চিত্র, তার ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এবং ঐতিহাসিক নানা ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণীসহ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের অডিও-ভিডিও রয়েছে। পরে বন্ধুকে নিয়ে রেল জাদুঘর ঘুরে দেখেন ফারহানা। নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেন, ‘এই জাদুঘরটি ঘুরে দেখে বঙ্গবন্ধুকে আরও বেশি করে অনুভব করেছি।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তরুণ প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিষয়ে ধারণা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে রেল জাদুঘর। এতে ১৯২০ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি গ্যালারিতে ডিসপ্লের পাশাপাশি তৎকালীন প্রেক্ষাপটের ধারা বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে। ভিডিও চিত্রের সঙ্গে ধারা বর্ণনা শুনে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস জানতে পারবে। জাদুঘরে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর পৈতৃক বাড়ি, সমাধিসৌধ, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণ, বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত প্রতীকী চশমা, মুজিবকোট, পাইপ, মুজিব নগর স্মৃতিসৌধ, জাতীয় শহীদ মিনার, কারাগারের রোজনামচা, বিজয়স্তম্ভ কমলাপুর ও মুজিব শতবর্ষের লোগো প্রদর্শিত হচ্ছে।
জাদুঘর ঘুরে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়ের স্নাতক (ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাঙ্কিং) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহানা সুলতান বলেন, আমি কলেজ হোস্টেলে থাকি। সকালে স্টেশনে বন্ধুকে ট্রেনে তুলে দিতে আসি। এসে দেখি প্লাটফর্মে জাদুঘরটি দাঁড়িয়ে আছে। পরে বন্ধু আসমাউল এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায়। এতে জাদুঘরটি ঘুরে দেখার ইচ্ছা জাগে। পরিদর্শন শেষে এতটুকু বলতে পারি, আমার বেশ উপকার হয়েছে। কেননা আগামী সপ্তাহে বঙ্গবন্ধু বিষয়ে আমার একটি অ্যাকাডেমিক উপস্থাপনা আছে। জাদুঘরে প্রবেশ করে বঙ্গবন্ধুকে আরও বেশি অনুভব করেছি, বোঝার চেষ্টা করেছি। মুখস্তের চেয়ে জাতির পিতাকে জানতে রেল জাদুঘর আমাকে আরও বেশি সহায়তা করেছে।’
এদিকে শুক্রবার সকাল থেকেই রেল জাদুঘর পরিদর্শনে ভিড় দেখা গেছে। শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং বয়স্ক মানুষের বেশ ভালো উপস্থিতি দেখা গেছে। এক কামরার জাদুঘরের ভেতরে সময় নিয়ে ঘুরে ঘুরে তারা দেখেছেন, হেডফোন কানে লাগিয়ে শুনেছেন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ।
কথা হয় জাদুঘর ঘুরতে আসা যশোর সদরের রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপংকর সরকারের সঙ্গে। তিনি দুই সন্তান দিশা ও দিব্যকে জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখাতে নিয়ে এসেছেন। দিশা পঞ্চম ও দিব্য দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারাও জাদুঘর ঘুরে দেখে বেশ খুশি।
শিক্ষক দীপংকর বলেন, আমি শিক্ষক হিসেবে বাচ্চাদের বোঝাতে চেষ্টা করি- বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনা করা সম্ভব না। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর যে অবদান, সেটি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
যশোর রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর কয়েকটি জেলা ঘুরে গত বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে যশোর স্টেশনে পৌঁছে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় এটি সকলের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এটি আগামী রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত যশোরেই থাকবে। যে কেউ বিনামূল্যে জাদুঘরটি দেখার সুযোগ পাবেন। জাদুঘর প্রদর্শনীর সময় প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। এরপর এটি যশোরের বেনাপোলে যাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান- চলতি মাসের ১ আগস্ট গোপালগঞ্জ রেল স্টেশনে ব্রডগেজ রেলওয়ে জাদুঘরটির উদ্বোধন হয়। পরে এটি বিভিন্ন জেলার স্টেশন ঘুরে যশোরে এসেছে।
যশোর স্টেশনের মাস্টার আয়নাল হাসান বলেন, যশোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল জাদুঘরটি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ওইদিন সকাল থেকেই মানুষজন আসছেন, দেখছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর এবং বিকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জাদুঘর সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে।








