X
শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
২০ মাঘ ১৪২৯

পাঁচ চরে শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত জেলেরা

হেদায়েৎ হোসেন, খুলনা
০২ নভেম্বর ২০২২, ২০:০১আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২২, ০৯:৪৬

সুন্দরবনের দুবলার চরসহ আশপাশের পাঁচ চরে শুরু হয়েছে শুঁটকি মৌসুম। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরতে সাগরে গেছেন জেলেরা। পাশাপাশি সুন্দরবনের বিভিন্ন চরে গড়েছেন শুঁটকিপল্লি। এখন মাছ ধরা ও শুঁটকি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পারছেন তারা।

২৯ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে শুঁটকি মৌসুম। এরই মধ্যে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলার উপকূলীয় জেলেরা দুবলার চরসহ আশপাশের চরগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। দুবলার চর, মাঝের কিল্লা, মেহের আলীর চর, নারকেল বাড়িয়া ও শেলার চরে শুঁটকি আহরণ করছেন তারা। আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত চরে অবস্থান করবেন জেলেরা।

পাইকগাছা উপজেলার মাহমুদকাটি জেলেপল্লির বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বিশ্বাস বলেন, ‘আর্থিক দুরবস্থা ও উন্নত প্রযুক্তির সংকট রয়েছে। এর মধ্যে দিয়েই সমুদ্রে যাই আমরা। নৌকা, জাল, খাবার, পানি—সবকিছু মিলিয়ে ১০-১৫ লাখ টাকা খরচ হয়, যা দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুদে নিতে হয়। ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বছরে ১৩ লাখ টাকা দিতে হয় দাদন ব্যবসায়ীদের। আমি এবার দাদন নিয়ে দুবলার চরে মাছ ধরতে এসেছি।’

রামনাথপুরের জেলে পাচু বিশ্বাস বলেন, ‘ধারদেনা মাথায় নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে এসেছি। এবার শুরুতে মাছের দেখা মিলছে। শুঁটকির মাচা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শেষ। মাচাতে শুঁটকি শুকাতে দেওয়া শুরু হয়েছে। এবার দস্যুমুক্ত সাগর পাড়ে স্বাচ্ছন্দ্যে শুঁটকি তৈরি করতে পারছি আমরা।’

কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের জেলে ইউনুস শেখ বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় আর্থিকভাবে অনেক সমস্যায় ছিলাম। এখন দুবলার চরে মাছ ধরতে এসেছি। এবার মাছ ভালাে পাওয়া যাচ্ছে। আশা করছি, খরচ উঠে যাবে।’

একই গ্রামের জেলে তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘১৫ বছর ধরে সাগরে মাছ ধরি। আগে তেমন নিষেধাজ্ঞা ছিল না। কয়েক বছর ধরে মাঝেমধ্যে  নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হয়। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার আমাদের অল্প পরিমাণ চাল দেয়, এতে সংসার চলে না। জেলে হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার সময় স্থানীয় কেউ আমাদের কাজেও নেয় না। তবে এ সময়ে চালের সঙ্গে সরকার যদি আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে উপকার হতো।’

খুলনা মৎস্য অধিদফতর কার্যালয় সূত্র জানায়, ‘জেলেদের মানোন্নয়নে কাজ চলছে। তাদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান, সাগরে অবস্থান চিহ্নিত করতে গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন (জিএসএম) স্থাপন করা হচ্ছে।’

বাগেরহাট জেলেপল্লির সভাপতি শহিদ মল্লিক বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি ও ঋণের বােঝাসহ নানা শঙ্কার মধ্য দিয়ে সাগরে মাছ ধরি আমরা। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। পাশাপাশি জাল ও দড়িসহ অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে বেশ খরচ হয়। এসবের জন্য সরকারি সহায়তা এবং সুদমুক্ত ঋণের দাবি জানাই।’

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৪৩ হাজার ২১৯ জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে সমুদ্রগামী জেলের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩১ হাজার। এছাড়া বিভিন্ন নদীর মোহনায় ইলিশ শিকার করেন দুই হাজার ১০০ জেলে। জেলায় সবচেয়ে বেশি ১৩ হাজার ৬৩ জেলে কয়রার। দাকোপে নয় হাজার ৮৪ ও পাইকগাছায় চার হাজার ৮০৭ জন। ২০২০-২১ অর্থবছরে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ করা হয়েছে দুই হাজার ২০০ মেট্রিক টন।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৩২ হাজার ৬৯৪ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। নিবন্ধিত মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে ৫০০টির বেশি। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলায় ইলিশ শিকারের সঙ্গে জড়িত ১২ হাজার জেলেকে ২৫ কেজি কর চাল দেওয়া হয়েছে। বাকিরা পাননি।

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, ‘একসময় সমুদ্রগামী জেলেরা মৎস্য আহরণকালে জ্বালানি, আবাসস্থল তৈরি ও ট্রলার নোঙরসহ বিভিন্ন কাজে সুন্দরবনের ওপর নির্ভর করলেও এখন চিত্র পাল্টেছে। বেসরকারি উদ্যোগে তাদের কেউ কেউ নিরাপত্তা সরঞ্জাম লাইফ জ্যাকেট, বয়া, রেডিও, দিক নির্ণয়ক যন্ত্র, তাঁবু ও জিপিআরএস ব্যবহার করছেন। জেলেদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান ও নৌকায় জিএসএম দেওয়া হচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষিত করে তোলা হচ্ছে। জেলায় প্রায় ৪৪ হাজার জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৬৯৪ জেলে নিবন্ধিত। সমুদ্রগামী জেলেরা পর্যায়ক্রমে খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন।’

বাগরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এএসএম রাসেল বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ সময়ে জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে ইলিশের আকার যেমন বেড়েছে তেমনি পরিমাণও বেড়েছে। এতে রাষ্ট্র যেমন লাভবান হবে তেমনি জেলরাও স্বাবলম্বী হবেন।’

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘সাগর পাড়ে শুঁটকিপল্লি গড়ে তুলেছেন জেলেরা। এবার দস্যু না থাকলেও জেলেদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি রয়েছে আমাদের। বন বিভাগ ও কোস্টগার্ডসহ প্রশাসন যৌথভাবে এ নিয়ে কাজ করছে।’

/এএম/
সর্বশেষ খবর
সড়কে লাশ হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
সড়কে লাশ হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত থেকে আহত অবস্থায় এক যুবককে উদ্ধার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত থেকে আহত অবস্থায় এক যুবককে উদ্ধার
রংপুরে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের মঞ্চ ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ
রংপুরে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের মঞ্চ ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ
নিজের বিয়েতে নাচতে হবে কিয়ারাকে, এটাই রীতি!
নিজের বিয়েতে নাচতে হবে কিয়ারাকে, এটাই রীতি!
সর্বাধিক পঠিত
যা থাকছে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে
যা থাকছে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে
‘বারবার বলেছি আর মারিস না’
‘বারবার বলেছি আর মারিস না’
যুক্তরাষ্ট্রে উড়ছে চীনের গোয়েন্দা বেলুন, প্রস্তুত এফ-২২ যুদ্ধবিমান
যুক্তরাষ্ট্রে উড়ছে চীনের গোয়েন্দা বেলুন, প্রস্তুত এফ-২২ যুদ্ধবিমান
৫০০ ছাত্রীর মধ্যে নিজেকে একা দেখে জ্ঞান হারালো ছাত্র
৫০০ ছাত্রীর মধ্যে নিজেকে একা দেখে জ্ঞান হারালো ছাত্র
৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, ৮ ঘণ্টা পর মিললো লাশ
৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, ৮ ঘণ্টা পর মিললো লাশ