খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে স্বামীকে বেঁধে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। তাদের কাছ থেকে ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় প্রেস ব্রিফিং করে এসব তথ্য জানিয়েছেন র্যাব-৬-এর পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মোসতাক আহমদ। বুধবার রাতে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর আগে ১৩ ডিসেম্বর রাতে মহানগরীর আড়ংঘাটা বাইপাস সড়ক এলাকায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—আড়ংঘাটা এলাকার বেলাল মোড়ল (৪৬), মো. রাসেল (২২), দৌলতপুরের আজিজুর রহমান মিঠু (৪০) ও দিঘলিয়া উপজেলার জিহাদ মুন্সি (২৪)। আজিজুর ও বেলাল ইজিবাইকচালক, জিহাদ বেকারিশ্রমিক এবং রাসেল স্থানীয় একটি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।
র্যাব জানায়, ১৩ ডিসেম্বর রাতে মহানগরীর বাইপাস সড়কে ঘুরতে বের হন ওই দম্পতি। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন ব্যক্তি এসে দম্পতিকে পুুলিশ বলে পরিচয় দেয়। সেইসঙ্গে স্বামীর চোখ বেঁধে আড়ংঘাটার মোড়লপাড়া এলাকায় নিয়ে রাত ৯টার দিকে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে তারা। সেইসঙ্গে মোবাইলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে বিষয়টি কাউকে জানালে গৃহবধূকে হত্যার হুমকি দেয়।
আড়ংঘাটা থানার ওসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশ পরিচয়ে এমন ঘটনা ঘটানো দুঃখজনক। ঘটনা শোনার পর অভিযুক্তদের শনাক্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছিল। এরই মধ্যে চার জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।’
র্যাব-৬-এর সিনিয়র এএসপি পহন চাকমা বলেন, ‘ঘটনা জানার পর থেকে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব। বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে র্যাব-৬-এর পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মোসতাক আহমদ বলেন, ‘১৩ ডিসেম্বর বিকালে ঘুরতে বের হন ওই দম্পতি। সন্ধ্যায় বাইপাস মোড় থেকে আড়ংঘাটা বাজারে যাওয়ার সময় চার ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে দম্পতিকে থামায়। তখন ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বামীকে নির্জন স্থানে আটকে রাখে। পাশাপাশি স্ত্রীকে ওই এলাকার একটি বাসার ছাদে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। সেইসঙ্গে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ঘটনাটি কাউকে জানালে গৃহবধূকে হত্যার হুমকি দেয়। রাতে গৃহবধূকে রাস্তায় ফেলে যায় তারা। পরে বিষয়টি স্বামীকে জানালে স্ত্রীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় বুধবার গৃহবধূ আড়ংঘাটা থানায় মামলা করেছেন উল্লেখ করে এই র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘মামলার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চার জনকে গ্রেফতার করে র্যাব-৬-এর অভিযানিক দল। তাদের কাছ থেকে মোবাইলে ধারণকৃত ধর্ষণের ভিডিও উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে তারা। পরে তাদের আড়ংঘাটা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’








