খুলনা অঞ্চলে টমেটো গাছে ভাইরাস দেখা দিয়েছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তবে এ নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনায় সাড়ে ৬০০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সাড়ে ৭০০ হেক্টর। এর মধ্যে ডুমুরিয়া, রূপসা, তেরখাদা ও বটিয়াঘাটাসহ আশপাশের এলাকায় টমেটো চাষ বেশি হয়। এরই মধ্যে টমেটো গাছে ভাইরাস দেখা দিয়েছে। তবে সেটি কী ধরনের ভাইরাস তা শনাক্ত করতে পারছেন না কৃষকরা।
ডুমুরিয়া উপজেলার বান্দা এলাকার কৃষক সত্যেন্দ্রনাথ বৈরাগী বলেন, ‘প্রায় দুই বিঘা জমিতে দুই হাজার টমেটো গাছ লাগিয়েছি। যা থেকে ফলন পাচ্ছি। কিন্তু এরই মধ্যে কিছু গাছে ভাইরাস দেখা দিয়েছে। সেগুলোর আগা কেটে মাটিচাপা দিয়ে দিচ্ছি। সেইসঙ্গে ছত্রাকনাশক স্প্রে করছি। পাশাপাশি সার ও কীটনাশক দিচ্ছি। এরপরও কোনও কাজ হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘টমেটো চাষে আমার খরচ হয়েছে চার হাজার টাকা। ইতোমধ্যে সাত হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করেছি। আরও ১৫-২০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবো। ভাইরাস দেখা না দিলে আরও বেশি ফলন হতো।’
বান্দা এলাকায় দেড় বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন রবীন্দ্রনাথ বৈরাগী। তিনি বলেন, ‘ভাইরাসজনিত কারণে অর্ধেক টমেটো গাছ নষ্টে হয়ে গেছে। পরে দ্বিতীয় দফায় আরও কিছু টমেটো গাছ লাগিয়েছি। এগুলোও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ভাইরাসের কারণে ইতোমধ্যে ২০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। এখন এই সমস্যা দূর করতে না পারলে আরও ক্ষতি হবে।’
তবে গরম ও ঠান্ডায় সবজিতে ভাইরাসজনিত সমস্যা স্বাভাবিক বিষয় বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মোসাদ্দেক হোসেন।
তিনি বলেন, ‘ভাইরাস নিয়ে কৃষকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা এলাকাভিত্তিক কাজ করছেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। মাঠকর্মীদের পরামর্শ নিলে গাছের ভাইরাস দূর হয়ে যাবে।’









