যশোর শহরে প্রকাশ্যে ইরফান ফরাজীকে (২৮) হত্যা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল কাদেরকে (৪২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (০২ জানুয়ারি) রাতে শহরের রেলগেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল কাদের জানিয়েছে, সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়ার কারণে ইরফানকে হত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (০৩ জানুয়ারি) জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি যশোর) এসআই মফিজুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইরফান ফরাজী যশোর শহরের ধোপাপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলাম ফরাজীর ছেলে। তিনি খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ডিপ্লোমা করেছেন। ধোপাপাড়া এলাকায় তার মুদি দোকান রয়েছে। গ্রেফতার আব্দুল কাদের যশোর শহরের রেলগেট রায়পাড়া এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে।
এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, গত ২২ ডিসেম্বর বিকালে যশোর শহরের খড়কি কারবালা বামনপাড়া রোডে ইরফান ফরাজীকে ৪-৫ জন ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। ঘটনাস্থলের পাশের একটি মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে আসামিদের শনাক্ত ও তাদের গ্রেফতারের অভিযান চালানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব সদস্যরা সোমবার সকালে যশোর শহরতলীর নিউমার্কেট এলাকা থেকে সন্দেহভাজন আসামি তৌহিদুল ইসলামকে আটকের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন।
তৌহিদুলের দেওয়া তথ্যমতে বিকালে অভিযান চালিয়ে চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া তার দেওয়া অনুযায়ী রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে শহরের রেলগেট এলাকা থেকে আব্দুল কাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল কাদের পুলিশ জানিয়েছে, চাকরির কথা বলে ইরফান ফরাজীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময় তিন লাখ ২০ হাজার টাকা নেয় আব্দুল কাদের। কিন্তু চাকরি না দেওয়াই তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এই কারণে ইরফানকে হত্যার জন্য পাখি, তৌহিদুল, শিশির ও রাহুলের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা চুক্তি করে কাদের।
ঘটনার দিন পাখি, তৌহিদুল, শিশির ও রাহুল চাকু নিয়ে ইরফানের দোকানে চিপস কেনার ছলে যায়। এরপর তার বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় তারা। গুরুতর অবস্থায় ইরফানকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকালে আব্দুল কাদেরের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ১০০ টাকা মূল্যের একটি স্টাম্প এবং ইরফানের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।









