বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ। আট দেয়ালে সাজানো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের ইতিহাস। বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের সূচনাপর্ব থেকে স্বাধীনতা, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বিজয়ের তথ্যচিত্র দেয়ালে ও ফ্রেমবন্দি অবস্থায়। বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলা থেকে শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক জীবন তুলে ধরা হয়েছে দেয়ালে। সবমিলিয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনসে তৈরি করা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ জাদুঘর যেন বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস রচিত এক ছাদের নিচে বঙ্গবন্ধুর একখণ্ড বাংলাদেশ।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনসের একটি কক্ষে গড়ে তোলা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ জাদুঘর’। ১২০০ বর্গফুটের এই কক্ষ এখন বাংলাদেশের ইতিহাস, সংগ্রাম ও বিজয়ের কথা বলছে। কক্ষের প্রতিটি দেয়ালে মোড়ানো একেকটি যুদ্ধজয়ের প্রতিচ্ছবি। ১৯৪৭ থেকে থেকে মহান স্বাধীনতা, চুয়াডাঙ্গার ইতিহাস থেকে পুলিশের ভূমিকা, কী নেই। পাশাপাশি আছে আটটি কংক্রিটের ওয়াল, তিনটি স্ট্রিং ওয়াল, তিনটি বোর্ড ওয়াল ও দুটি স্মৃতি স্মারক। তরুণ প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য এমন উদ্যোগ। এই উদ্যোগের পরিকল্পনা গ্রহণকারী এবং বাস্তবায়নকারী হলেন জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন।
তিনি বলেন, ‘জেলা পুলিশের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঘিরে এই জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সারাদেশের পুলিশ বিভাগের মধ্যে এটিই প্রথম জাদুঘর। তাই এ নিয়ে পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি।’
জাদুঘরের কক্ষের আট দেয়ালে যা আছে
প্রথম দেয়াল: বঙ্গবন্ধু ও বহির্বিশ্বের সম্পর্ক। দ্বিতীয় দেয়াল: ৭ই মার্চের ভাষণ ও স্বীকৃতি। তৃতীয় দেয়াল: স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা, ১৯৪৭-১৯৭০ সাল পর্যন্ত (বঙ্গবন্ধুর জীবনী, শিক্ষাজীবন, ঘটনা প্রবাহ)। চতুর্থ দেয়াল: রক্তাক্ত ১৯৭১ সাল। পঞ্চম দেয়াল: ১৯৭২-৭৫ (অতঃপর থমকে যাওয়া বাংলাদেশ)। ৬ষ্ঠ দেয়াল: বাংলাদেশ পুলিশের অবদান (মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়)। সপ্তম দেয়াল: মহান মুক্তিযুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে চুয়াডাঙ্গার সন্তানদের ভূমিকা। অষ্টম দেয়াল: ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা (পঞ্চম দেয়ালের সূত্র ধরে ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে যাত্রা এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন)।
জাদুঘর নির্মাণকারীরা বলছেন, তথ্যচিত্রনির্ভর নির্মিত এই জাদুঘর থেকে জানার আছে আরও অনেক কিছু। নতুন প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের সঠিক ইতিহাস জানাতে এটি সহায়ক হবে। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে জাদুঘরটি। উদ্বোধনের পর যেকোনো বিশেষ জাতীয় দিবসে জেলার ছাত্রছাত্রীদের কক্ষটি খুলে দেওয়া হবে।
জাদুঘর দেখতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সুজন বলেন, ‘আমরা অনেকে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জানি না। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কেও অনেকে সবকিছু জানি না। এখানে এসে অনেক কিছু জানতে পারলাম। বিশেষ করে জাতির পিতার শৈশব ও কৈশোর এবং রাজনৈতিক জীবনের নানা বিষয়ে তথ্যচিত্রে দেখলাম। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, তা সম্পর্কেও জেনেছি। সবমিলিয়ে দারুণ উপভোগ করেছি।’
জেলার কলেজশিক্ষার্থী সানজিদা ইসলাম বলেন, ‘এখানে এসে মনে হলো এটি বঙ্গবন্ধুর একখণ্ড বাংলাদেশ। সবকিছু এক ছাদের নিচে একসঙ্গে দেখতে পেলাম। দেশ সম্পর্কে অনেক কিছুই জানলাম। খুব ভালো লেগেছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ কতটা এগিয়েছে, তারও চিত্র আছে এখানে। আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে, তারও দেখা মিলেছে। পাশাপাশি জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানলাম। এমন জাদুঘর নির্মাণকারী ও উদ্যোগ গ্রহণকারী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।’
বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের সূচনাপর্ব থেকে বর্তমান বাংলাদেশ—এই জাদুঘরে সব তথ্যচিত্র একত্রিত করা হয়েছে বলে জানালেন জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, ‘এর পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গার মুক্তি-সংগ্রাম, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছি আমরা। বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন-সংগ্রাম, সোনার বাংলা গড়ার অভিযাত্রা, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং বর্তমানে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান ও ভূমিকা—সবই আছে এখানে।’
এখানে আমরা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে তুলে ধরেছি উল্লেখ করে পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাস জানবে নতুন প্রজন্ম। তাদের মাধ্যমে আলোকিত হবে দেশের মানুষ।’








