যশোরের মণিরামপুরের কলেজশিক্ষক উদয় শঙ্কর বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। স্কুলে দফতরির চাকরি ও একটি মোটরসাইকেলের লোভে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশকে জানিয়েছে গ্রেফতারকৃতদের একজন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকালে যশোর পুলিশের মুখপাত্র ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রুপন কুমার সরকার এ তথ্য জানিয়েছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলো অভয়নগর উপজেলার সরখোলা গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আল আমিন মোল্লা (২৮), হারুন মোল্লার ছেলে সুমন হোসেন (২৪), শহিদুল ইসলামের ছেলে শামীম হোসেন (২৮) এবং মণিরামপুর উপজেলার পাঁচাকড়ি গ্রামের আব্দুস সালাম গাজীর ছেলে রাসেল কবির (২৭)।
যশোর ডিবি পুলিশের এসআই আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বুধবার রাতে অভয়নগর উপজেলার সরখোলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে হত্যার মিশনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল জব্দ করা হয়। পরে স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পাঁচাকড়ি থেকে আরেকজনকে গ্রেফতার করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমিরুল।
পুলিশ জানায়, গত ১৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খুন হন মণিরামপুর উপজেলার পাঁচাকড়ি গ্রামের রণজিৎ বিশ্বাসের ছেলে উদয় শঙ্কর বিশ্বাস। তিনি নেহালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও নেহালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এবং টেকেরঘাট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। সেদিন নিহতের মা ছবি রানি বিশ্বাস মণিরামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, টেকেরঘাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ ও ঘের নিয়ে উদয় শঙ্করের সঙ্গে তারই চাচাতো ভাই পবিত্র শঙ্করের শত্রুতা ছিল। এ কারণে পবিত্র তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। একপর্যায়ে আল আমিনকে স্কুলে দফতরির চাকরি ও মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার কথা বলে অস্ত্র-গুলি সরবরাহ করে। ঘটনার দিন আল আমিন ও সুমন তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলযোগে পাঁচাকড়ি যায়। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে আল আমিন পিস্তল দিয়ে গুলি করে উদয় শঙ্করকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পরপরই পবিত্র ভারতে পালিয়ে যায়।
ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রুপন কুমার সরকার বলেন, ‘ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় পবিত্রকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








