যশোরে বিচারককে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি দেওয়ার অভিযোগে নবকুমার কুন্ডু নামে এক আইনজীবী এবং মুহুরিসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বিকালে আদালতে সোপর্দ করলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। তারা হলেন যশোর শহরের পুরাতন কসবা চাকলাদারপাড়ার বাসিন্দা আইনজীবী নবকুমার কুন্ডু (৫৫), তার মুহুরি পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার রবিউল ইসলাম (৪২) ও কম্পিউটার অপারেটর ষষ্টীতলা এলাকার মিহির কুমার সাহা (৫০)।
ডিবি পুলিশ জানায়, যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এক নারী বিচারককে গত ২৮ জানুয়ারি একটি চিঠি পাঠানো হয়। বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির জনৈক নেতা নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে, ৩০ জানুয়ারি ক্রিমিনাল মিস ২৯/২৪ নম্বর মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ থাকলেও সব আসামিকে জামিন দেবেন। অন্যথায় আপনার জীবন শেষ করে দেওয়া হবে। আপনারও একই অবস্থা করা হবে।’
বিচারক বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানালে ঘটনার তদন্ত শুরু করে ডিবি। এরপর চিঠি পোস্ট করা যশোর পোস্ট অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বুধবার রাতে শহরের কাজীপাড়া থেকে রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের সিভিল কোর্ট মোড় এলাকা থেকে কম্পিউটার অপারেটর মিহির সাহাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে আইনজীবী নবকুমার কুন্ডুকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই চিঠি দেওয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন গ্রেফতারকৃত তিন জন।
এ ঘটনায় যশোর ডিবির এসআই মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘চিঠি দিয়ে বিচারককে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ায় ওই তিন জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তারা।’
হত্যার হুমকির ঘটনায় আইনজীবী জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর আলম শাহীন বলেন, ‘বিচারককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এক আইনজীবীকে গ্রেফতারের বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ সত্য হলে ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে সমিতি।’








