রি-মডেলিংয়ের আওতায় খুলনা রেলস্টেশনের পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় উচ্ছেদের কবলে পড়েন শের-ই-বাংলা বিপণীকেন্দ্রের ব্যবসায়ীরা। ২০১৫ সালের জুন মাসে রেলমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের শীর্ষ কর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তাকে (পাকশি) নির্দেশ দিয়েছিলেন। আট মাস পেরিয়ে গেলেও এ ব্যাপারে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। এ অবস্থায় চরম হতাশায় ভুগছেন বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
শনিবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে রেলওয়ের বিকল্প পরিত্যক্ত ভূমিতে তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানান। দাবি আদায়ের জন্য তারা সাত দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন।
কর্মসূচির মধ্যে ১৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং কালো ব্যাচ ধারণ ও পতাকা উত্তোলন, ১৪ মার্চ কালো পতাকাসহ মোটরসাইকেল মিছিল, ১৫ মার্চ কাফনের কাপড় পড়ে মিছিল, ১৬ মার্চ খুলনাস্থ রেলভবন ঘেরাও ও প্রতিবাদ সভা, ১৯ মার্চ বিপনী কেন্দ্রের সামনে অবস্থান ধর্মঘট এবং ২০ মার্চ মানববন্ধন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিপনী কেন্দ্রের সভাপতি আলহাজ্ব চ. ম. মজিবুর রহমান। এ সময় বিপনী কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন বাবরসহ শতাধিক ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেড় শতাধিক ব্যবসায়ী রেলওয়ের লাইসেন্স নিয়ে সরকারের সব ধরনের রাজস্ব দিয়ে সেমিপাকা দোকান ঘর তৈরি করে দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে ব্যবসা করে আসছেন। এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান যুক্ত।
রি-মডেলিং রেলস্টেশন নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী উচ্ছেদের শিকার হয়েছেন। রেল কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রি-মডেলিং রেল স্টেশন নির্মাণের স্বার্থে ব্যবসায়ীরা স্ব-উদ্যোগে তাদের দোকান ঘর ভেঙে নিয়ে গেছেন। এ অবস্থায় দীর্ঘ দিনের কর্মসংস্থান হারিয়ে চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
/বিটি/এএইচ/এইচকে/







