খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ ও খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। রবিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আনিচুর রহমানের আদালতে মামলাটি করেন ডাকবাংলা মোড়ের ব্যবসায়ী শেখ মেরাজ হোসেন।
মামলার বাদীপক্ষের বাবুল হাওলাদার বলেন, মামলার পর আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে ডেপুটি কমিশনার, সিআইডি খুলনাকে সরাসরি তদন্তের নির্দেশ নিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন ৮ ডিসেম্বর।
মামলার এজাহারে বাদী মেরাজ হোসেন উল্লেখ করেন, তার বাবা শেখ মো. আবুল হোসেন জেলা পরিষদ থেকে আনুমানিক ২৮ বছর আগে ডাকবাংলো মোড়ে জেলা পরিষদের মার্কেটের নিচ তলায় অফিস ঘর যথা নিয়মে লিজ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছিলেন। তার বয়স এবং অসুস্থতাজনিত কারণে আমি বড় সন্তান হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা শুরু করি। ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল আইনের বিধান মোতাবেক তার বাবা সন্তানের অনুকূলে লিখিতভাবে তাকে দায়িত্ব অর্পণ করেন। খুলনা সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে উক্ত প্লট তথা স্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ করে যাবতীয় আইন-কানুন মেনে ‘এ হোসেন এন্টারপ্রাইজ’ নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক কোটি টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে দুই জন কর্মচারী নিয়োগ করেন।
মামলার ১নং আসামি মাহাবুবুর রহমান তার বাবা শেখ আবুল হোসেনকে ২০২৩ সালের ২০ জুন জেলা পরিষদের কার্যালয়ে ডেকে দাফতরিক প্রয়োজনের কথা বলে তফসিলে বর্ণিত বন্দোবস্ত করা জমির মূল কাগজপত্র তার কাছে জমা দিতে বলেন। তার ২৯ জুন ১নং আসামির জেলা পরিষদের কার্যালয়ে গিয়ে তফসিল বর্ণিত সম্পত্তির যাবতীয় মূল কাগজপত্র হস্তান্তর করেন। পরে ২নং আসামি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে এবং ২নং আসামির প্রত্যক্ষ মদতে ১নং আসামি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তার বাবার হস্তান্তর করা মূল কাগজপত্র ফেরত দিতে বিভিন্ন টালবাহানা করেন।
বাদীর বাবা বাদীকে নিয়ে একাধিকবার ২নং আসামির সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনও সমাধান হয়নি। এরপর ওই বছর ১২ জুলাই ১নং আসামি ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং বলেন, অন্যথায় কাগজপত্র ফেরত দেওয়া হবে না। উক্ত সম্পত্তি জেলা পরিষদ থেকে খুলনা সিটি করপোরেশনের অধীন হস্তান্তর হওয়ার কারণে সম্পত্তির মালিক এখন খুলনা সিটি করপোরেশন হওয়ায় ৩নং আসামি সাবেক কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেককেও ১০ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করতে হবে।
টাকা না দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাকে এবং তার সঙ্গের লোকদের জীবনের মায়া ত্যাগ করতে হবে। তারা এতে ভীত হয়ে ১নং আসামির কাছে অনুনয়-বিনয় করলে তিনি রিভলভার প্রদর্শন করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলেন এবং ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বলেন।
এ বিষয়ে বাদী ৩নং আসামির সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোনও কথা বলবেন না বলে জানান। চাঁদা ও ঘুষ না দেওয়ায় ১নং আসামি কাগজপত্র এখনও ফেরত দেননি এবং ২০২৩ সালের ২১ জুলাই রাত ১০টার দিকে তার লোক দিয়ে হাতুড়ি-শাবল, ছানিসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি দিয়ে তফসিলে বর্ণিত সম্পত্তি ভেঙে ফেলেন। এতে দোকানে থাকা ৫৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। সদর থানা এ বিষয়ে মামলা গ্রহণ করেনি। আসামিদের এমন কর্মকাণ্ডে সহায় সম্বলহীন হয়ে রাস্তায় বসে পড়ার অবস্থা হয়েছে।








