যশোরের মণিরামপুর থানা ঘেরাও করে ভাঙচুরের অভিযোগে বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মণিরামপুর পৌরসভা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে মণিরামপুর থানার পুলিশ কনস্টেবল শেখর কুমার দত্ত বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ১৪-১৫ জনকে আসামি করা হয়। থানায় অনধিকার প্রবেশ, সরকারি কাজে বাধা দান, ত্রাস সৃষ্টি এবং থানার পুলিশ তদারকি পোস্ট (সেন্ট্রি পোস্ট) ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি মণিরামপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মাকসিদুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, ‘দাগি অপরাধীদের’ আটকের পর থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে মণিরামপুর থানা ঘেরাও করেছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা। রবিবার সন্ধ্যায় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
থানা ঘেরাওকালে বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেন, মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ গাজী সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের ধরে আনছেন ঠিকই, কিন্তু রহস্যজনক কারণে আদালতে সোপর্দ না করে থানা থেকেই ছেড়ে দিচ্ছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ধরে এনে সাজানো মামলায় হাজতে পাঠানো হতো। চালানো হতো নির্যাতন। সে সময় পুলিশের নির্বিচার চাঁদাবাজির ভয়ে অসংখ্য নেতাকর্মী বাড়ি তো দূরের কথা, এলাকায়ও থাকতে পারেননি। এখন দাগি অপরাধী হওয়ার পরও তাদের ছেড়ে দেওয়া ফ্যাসিস্টদের সহযোগিতার নামান্তর।
কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেছিলেন, আটকের পর দুই দিনে সাত জন চিহ্নিত অপরাধীকে ছেড়ে দিয়েছেন ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী। কেন ওসি এটা করছেন, তা বোধগম্য হচ্ছে না। এর মধ্যে নিশ্চয়ই কিন্তু আছে। সমাবেশে নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি থানা থেকে আসামি ছেড়ে দেওয়া বন্ধ না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দীক, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোতাহারুল ইসলাম, সদস্যসচিব সাইদুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বিল্লাল গাজী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইউনুস আলী জুয়েল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান ও সদস্যসচিব মাসুদ গাজী।
এ ঘটনার পর সোমবার সকালে মণিরামপুর থানার কনস্টেবল শেখর কুমার দত্ত বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় মণিরামপুর পৌরসভার স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী কামরুল ইসলাম এবং সদ্য বহিষ্কৃত ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাকসিদুল আলমের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাত ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে মাকসিদুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, ‘থানায় ভাঙচুরের মামলায় এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামি ছেড়ে দেওয়ার যে অভিযোগ বিএনপির নেতারা করেছেন, তা সঠিক নয়। পুলিশ আসামি ধরে আদালতে সোপর্দ করে। জামিন পেয়ে বেরিয়ে এলে পুলিশের কিছুই করার থাকে না।’









