যশোর টাউন হল মাঠে সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কোনও অবস্থাতেই জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে দেবে না দেশের মানুষ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে নির্বাচন করতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এ দেশের মানুষ সেটি মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাদের কাছে জানতে চায় নির্বাচন কবে হবে। আমরা বলি, সংস্কারের পরে নির্বাচন। তারা প্রশ্ন করে, সংস্কার কী! দেশের মানুষ কি জানে সংস্কার কী? তারা বোঝে- ঠিক দামে চাল কেনা, ডাল কেনা, পাসপোর্টের সঠিক সেবা, আদালতে যেন সঠিক বিচার পায়, পুলিশ যেন তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে। তারা দুমুঠো ভাত, মোটা কাপড়, শান্তিতে থাকা, মা-বোনেরা যেন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে- সেটি চায়। কিন্তু সেই অবস্থা এখন বাংলাদেশে নেই। উপদেষ্টাদের এখন সেদিকে মনোযোগ নেই। তাদের খেয়াল “কুরসি” কীভাবে আঁকড়ে রাখতে পারবেন!’
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে যশোরের ঐতিহ্যবাহী টাউন হল মাঠের রওশন আলী মঞ্চে বিভিন্ন দাবিতে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তিনি হঠাৎ করে একদিন বললেন- এখানে যা যা আলোচনা হয়, তা সব জনগণকে জানিয়ে দেবেন। আপনি কী আর বলবেন? আমরা যা যা করছি, সব প্রকাশ্যেই করছি। প্রত্যেকটি কথা আমরা জনগণকে জানাই। জনগণের ভয় আমাদের দেখাবেন না। আমরা জনগণের সঙ্গেই চলি, জনগণ আমাদের সঙ্গেই আছে।’
ড. মুহম্মদ ইউনূসসহ সব উপদেষ্টাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের যদি কোনও খায়েস থাকে, যদি সরকারে থাকতে চান, ক্ষমতায় থাকতে চান দয়া করে পদত্যাগ করুন। এরপর যে দল করতে চাইছেন, সেটি করুন, নির্বাচন করুন- জনগণের সামনে আসুন। এইটা খুব পরিষ্কার কথা।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের কোনও কোনও রাজনৈতিক দল বলতে শুরু করেছে, আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আমি জানি না, কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে তারা এটি বলছেন। আবার বলছেন, এখন নির্বাচনের পরিবেশ নেই। তাহলে পরিবেশ কখন হবে? যখন দেশের মানুষ অস্থির হয়ে যাবে!’
প্রতিদিন ঢাকায় আন্দোলন হচ্ছে, সড়ক অবরোধ করে রাখা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে যার দাবি নিয়ে আসবে। কেননা এর আগে তারা সময় বা সুযোগ পায়নি। আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি, নির্বাচনের মাধ্যমে কোনও সরকার এলে তাদের প্রতিনিধিরা কথাগুলো বলবে, সমস্যাগুলোর সমাধান হবে। এদের কাছ থেকে কোনও সমাধানের সুযোগ হবে না।’
তারেক রহমানকে দেশবাসী চায় উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনি দেশে আসুন। সমগ্র দেশের মানুষ আপনার দিকে চেয়ে আছে। দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এখন আপনাকে চায়। আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়, নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখে।’
জনগণের ভোটে আগামীতে ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেকটি বন্ধ কল-কারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যশোরবাসীর আরেক প্রধান সমস্যা ভবদহের জলাবদ্ধতা। বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয়দের সমন্বয়ে এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণ হিসেবে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের কারসাজিকে দায়ী করে বলেন, ‘যত দ্রুত দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, দেশের জন্যে সেটি মঙ্গল। পুলিশ এখনও ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না।’ তিনি উপদেষ্টাদের সুশাসনের প্রতি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সভাপতিত্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রুত গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্যে নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা, রাষ্ট্রে পতিত ফ্যাসিবাদের নানা কর্মকাণ্ডের অপচেষ্টা মোকাবিলাসহ বিভিন্ন দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অমলেন্দু দাস অপু, জাহানার সিদ্দিকী, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, আবুল হোসেন আজাদ, ফিরোজা বুলবুল কলি, সাবির নাজমুল মুন্নী, যশোর চেম্বারের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম মারুফসহ ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা।









