বাগেরহাটের মোংলায় আমেরিকা প্রবাসীর কাছ এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, চাঁদার দাবিতে মোংলার মিঠাখালী ইউনিয়নের গোয়ালেরমেঠ এলাকার বাসিন্দা ও আমেরিকা প্রবাসী বায়েজিদ শেখকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন মোংলা নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া সোনাইলতলা ইউনিয়নের জুবায়ের হোসেন ও আবু হাসান। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসী বায়েজিদ ওই দুই জনকে ১০ হাজার টাকাও দেন। তারপরও তারা বাকি ৯০ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবি করা চাঁদা না দিলে তাকে মারধর করে অস্ত্র দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন বলেও হুমকি-ধমকি এবং ভয়ভীতি দেখান।
ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের জানিয়েও কোনও প্রতিকার না পেয়ে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মোংলার নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টে জুবায়ের ও হাসানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসী বায়েজিদ।
প্রবাসীর অভিযোগ, পুলিশও তাদের সঙ্গে মিলে তাকে হয়রানি করে আসছেন। চাঁদা দাবির ঘটনা পুলিশকে জানালেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
এদিকে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে নাগরিক কমিটির নেতা পরিচয় দেওয়া জুবায়ের ও হাসানের বিরুদ্ধে। তারা সম্প্রতি উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান উদয় শংকর বিশ্বাসের কাছেও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বাড়িঘর ভাঙচুর ঠেকানোর কথা বলে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদারের ছেলে সবুজ হাওলাদারের কাছেও ১০ লাখ টাকা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মোবাইল ফোনের সেই কল রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে।
তাদের এমন কর্মকাণ্ডের ফোনালাপ ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত জুবায়ের ও হাসান দাবি করেন, আমাদের সংগঠন (নাগরিক কমিটি) ও আমাদেরকে হেয়পতিপন্ন করার জন্য একটা পক্ষ বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। নৌ কন্টিনজেন্টে আমাদের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা এর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ দেখাতে পারলে সংগঠন যে ব্যবস্থা নেবে তা মেনে নিতে বাধ্য থাকবো।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব ও নাগরিক কমিটির সমন্বয়ক আজিনা আরমিন নওরিন বলেন, মোংলায় নাগরিক কমিটির পদধারী কোনও নেতা নেই। কেউ যদি এই কমিটির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজিসহ কোনও অপরাধ করেন, তার দায় দায়িত্ব নাগরিক কমিটি নেবে না। এই কমিটির নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








