কুষ্টিয়া সীমান্তে ৯ বাংলাদেশি নাগরিককে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার (৩১ মে) বিকাল ৫টার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৭ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ, ২ জন নারী, ২ কিশোর এবং ১ শিশু রয়েছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধীনস্থ দৌলতপুর উপজেলার আশ্রায়ণ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৫৪ থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভাগজত ঘাট এলাকায় একটি নৌকা থেকে ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নামতে দেখা যায়। স্থানীয় জনগণের সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি আশ্রায়ণ বিওপিকে অবহিত করে। এসময় বিজিবির নিয়মিত টহলদল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হেফাজতে নেয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, পৃথক দুটি পরিবার প্রায় ৪ বছর আগে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী থানার বামনহাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের দিল্লি রাজ্যের অন্তর্গত উত্তর-পশ্চিম দিল্লি জেলার রামপুরা থানার অধীনস্থ একটি এলাকায় ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বিজিবি আরও জানায়, সম্প্রতি ভারতের অভ্যন্তরে অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ধরপাকড়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এবং আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে কোনও হয়রানি না করার সরকারি ঘোষণায় উৎসাহিত হয়ে নিজেরাই স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার অভিপ্রায় প্রকাশ করে। পরবর্তীতে শুক্রবার (৩০ মে) তাদের ভারতের জলঙ্গি থানার নিকটবর্তী একটি বিএসএফ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে থেকে বিএসএফ কর্তৃক কাঁটাতারবিহীন চরাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে রাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়। বাংলাদেশে প্রবেশের পর তারা পায়ে হেঁটে ও ভাড়াকৃত মোটরসাইকেলে চলাচল করে ভাগজত ঘাট এলাকায় এসে উপস্থিত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, বিএসএফ কর্তৃক পুশইন করা ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রয়েছে এবং তারা শারীরিকভাবে সুস্থ আছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ৪ জন পুরুষ, ২ জন নারী, ২ কিশোর এবং ১ শিশু।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি বিজিবি কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট থানা ও বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সীমান্ত পিলার ৮৫/১০-এসের নিকটবর্তী স্থানে বিজিবি চরচিলমারী কোম্পানি ও প্রতিপক্ষ ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের জলঙ্গি কোম্পানি কমান্ডারের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি পুশইনের বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হস্তান্তর নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিএসএফ কর্তৃক প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হস্তান্তর না করে পুশইন কার্যক্রম পরিচালনার বিরুদ্ধে বিজিবি পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকে অংশগ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।









