১৫৩৮ কোটি টাকায় আবারও শুরু হচ্ছে মোংলা নৌ চ্যানেলের খননকাজ

আবুল হাসান, মোংলা
০১ জুন ২০২৫, ০৮:০১আপডেট : ০১ জুন ২০২৫, ০৮:০১

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নৌ চ্যানেলের গভীরতা ঠিক রাখতে আবারও শুরু হচ্ছে খননকাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ভিড়তে পারবে। এ ছাড়া খননকাজ শেষ হলে পণ্য আমদানি-রফতানিতে গতি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ খননকাজে ব্যয় হবে এক হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মৃতপ্রায় বন্দরে পরিণত হয়েছিল মোংলা সমুদ্রবন্দর। সে সময় বন্দরটি অচল হয়ে পড়ার মূল কারণ ছিল বন্দরের বহির্নোঙর ও অভ্যন্তরীণ চ্যানেলে ড্রেজিং না করা। যার কারণে ওই সময়ে মারাত্মক নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায় জাহাজ ভিড়তে পারতো না। মাসের পর মাস জাহাজশূন্য হয়ে অচলাবস্থা ছিল বন্দরজুড়ে। বন্দরের বহির্নোঙর ও অভ্যন্তরীণ চ্যানেলে নাব্য সংকটের কারণে কনটেইনারবাহী ৯ দশমিক ৫০ মিটার গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ বন্দরে সরাসরি প্রবেশ করতে না পারায় আমদানি-রফতানিতে ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারান।

১৫৩৮ কোটি টাকায় আবারও শুরু হচ্ছে মোংলা নৌ চ্যানেলের খননকাজ ২০২০ সালে ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪ কিলোমিটার বহির্নোঙর ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ হয়। এখন অভ্যন্তরীণ চ্যানেল দিয়ে বর্তমানে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ অনায়াসে আসা যাওয়া করছে। পরে বন্দর জেটিতে স্বাভাবিক জোয়ারে ৯ দশমিক ৫০ মিটারের অধিক গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ আনার জন্য বন্দরের ১৪৫ কিলোমিটার নৌ চ্যানেলের মধ্যে ৪৫ কিলোমিটার নৌপথ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে। এতে বন্দরের যেমন সক্ষমতা বাড়বে একই সঙ্গে নৌ চ্যানেলের নাব্যতা ফিরলে বড় জাহাজ ভিড়তে সমস্যা হবে না।

এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা প্রধান মো. জহিরুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নৌ চ্যানেল এই বন্দরের প্রাণ। সেই চ্যানেলকে রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য ইতিমধ্যে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি পাঁচ বছর মেয়াদে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করা হবে। এক হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নৌবাহিনী প্রকল্পের শেষ করবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দরকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে নিয়মিত পশুর চ্যানেল ড্রেজিংয়ের বিকল্প নেই। প্রথমে বহির্নোঙর ড্রেজিং শেষ করে ২০২১ সালের ১৩ মার্চ অভ্যন্তরীণ ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। এরই মধ্যে আমরা সেটা প্রমাণ করতে পেরেছি’।

তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর বন্দরে রেকর্ড সংখ্যক জাহাজের আগমন-নির্গমনের সঙ্গে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্দরকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে কিছু প্রকল্প শেষ হয়েছে। কিছু চলমান রয়েছে। বর্তমানে পশুর চ্যানেলের অভ্যন্তরীণ ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে নাব্যতা সংকট নিরসনসহ গতিধারা বাড়বে। দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম, জুলফিকার আলী ও ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, দেশের অন্যতম এই বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গতিশীলতা বাড়াতে নৌ চ্যানেলে ড্রেজিংয়ের বিকল্প নেই। তাই ড্রেজিং করতে হবে। কোনও কারণে ড্রেজিং বন্ধ হয়ে গেলে জাহাজ আসা যাওয়া ব্যাহত হবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে বন্দর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

/এমএস/এএম/
সম্পর্কিত
জ্বালানি সংকট: মোংলা বন্দরে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা
আমদানিকৃত সার মোংলা বন্দরে খালাস হয় কেন? 
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরজ্বালানি সংকটে পণ্য খালাস করতে পারছে না লাইটার জাহাজ
সর্বশেষ খবর
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি