বাঁধ ভেঙে প্লাবন আতঙ্কে পাইকগাছার ১৩ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ

খুলনা প্রতিনিধি
২১ আগস্ট ২০২৫, ০৯:১৯ আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৫, ০৯:১৯

খুলনার পাইকগাছায় ভদ্রা নদী সংলগ্ন কালিনগর ওয়াপদার বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কে আছেন উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের ১৩ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ। 

গত ২০ বছরে অব্যাহত ভাঙনে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি ও অসংখ্য ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্তরা। ১৩টি গ্রামে লবণপানি ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। এবারও ওই ভাঙন এলাকার এক কিলোমিটার দূরে ৪০০ মিটার অংশে ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে।

গত বছর বাঁধ ভেঙে ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ লবণ পানিতে বন্দি হয়েছিল। পানির তোড়ে ঘেরের মাছ, মাটির তৈরি ঘর, ধান, সবজি ও ফসল ভেসেছিল। 
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কালীনগর, দারুল মল্লিক, হরিণখোলা, সৈয়দখালি, সেনেরবেড়, গোপীপাগলা, খেজুরতলা, তেলিখালী, হাটবাড়ী, ফুলবাড়ি, বিগরদানা, দুর্গাপুর ও নোয়াই গ্রামের মানুষ।

চলতি বছরের আগস্টেও আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেকোনও মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে  বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয়রা বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন।

বর্তমানে কালিনগর সাধুঘাটের অমল কবিরাজের বাড়ি থেকে প্রভাষ মণ্ডলের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মিটার বাঁধে ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি— অবিলম্বে ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলা ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ জরুরি।

দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সমরেশ হালদার বলেন, প্রতি বছরই বাঁধে ভাঙনের ঘটনা ঘটছে। এতে লবণপানি ঢুকে কৃষিপ্রধান এলাকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 
নদীশাসন না করে মানুষের জমি নষ্ট করে পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করায় বা টেকসই হচ্ছে না। তাই টেকসই বাঁধ দরকার।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুকুমার কবিরাজ বলেন, দেলুটি ইউনিয়নের উত্তরে মরা ভদ্রা নদী, দক্ষিণে শিপসা নদী এবং পূর্বে মাদুর পাল্টাসহ ভদ্রা নদী। পাঁচটি ওয়ার্ডের ১৩টি গ্রাম নিয়ে ২২ নম্বর পোল্ডার। এই পোল্ডারে প্রতি বছর এখানে কোটি কোটি টাকার তরমুজ ও অন্য ফসল উৎপাদন হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, কালীনগরে বেড়িবাঁধের ফাটল ও ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হচ্ছে। এ ছাড়া পোল্ডারের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একটি বড় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

/এফআর/
সম্পর্কিত
যেখানে নদী আর সেতুর মিতালি, সঙ্গে চোখ জুড়ানো গ্রামবাংলার দৃশ্য
দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো
মৈনপাটের পথে, পাহাড়-ঝরনা আর বৌদ্ধমঠে ভরা অনন্য ঠিকানা
সর্বশেষ খবর
ইতিহাস গড়ে যোগ দেওয়ার ৬ দিনের মাথায় চাকরি হারালেন ট্রাম্পের প্রেস সচিব
ইতিহাস গড়ে যোগ দেওয়ার ৬ দিনের মাথায় চাকরি হারালেন ট্রাম্পের প্রেস সচিব
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর প্রাইভেটকারের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত, আহত ২
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর প্রাইভেটকারের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত, আহত ২
আমাদের দলের প্রার্থী পাস না করলে সেই ইউনিয়নে কোনও কাজ হবে না: চিফ হুইপ
আমাদের দলের প্রার্থী পাস না করলে সেই ইউনিয়নে কোনও কাজ হবে না: চিফ হুইপ
মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাসহ গ্রেফতার ৪
মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাসহ গ্রেফতার ৪
সর্বাধিক পঠিত
মৃত্যুর ৪ দিন পর দাফন, নাসিমা খানের জানাজায় ছিলেন না বড় কোনও তারকা
মৃত্যুর ৪ দিন পর দাফন, নাসিমা খানের জানাজায় ছিলেন না বড় কোনও তারকা
ডিসির নির্দেশে রাতারাতি বদলে গেলো দেশলাই কাঠির প্রতিমা
ডিসির নির্দেশে রাতারাতি বদলে গেলো দেশলাই কাঠির প্রতিমা
সরকারি মাঠ দখলের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে, বললেন ‘এখন আমাদের সময়’
সরকারি মাঠ দখলের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে, বললেন ‘এখন আমাদের সময়’
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনেই সাজেক ভ্রমণে ৫ শতাধিক পর্যটক
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনেই সাজেক ভ্রমণে ৫ শতাধিক পর্যটক
বিএসএফের ধরে নিয়ে যাওয়া ২ পুলিশ সদস্য কেমন আছেন, জানালেন বিজিবি পরিচালক 
বিএসএফের ধরে নিয়ে যাওয়া ২ পুলিশ সদস্য কেমন আছেন, জানালেন বিজিবি পরিচালক