ঘূর্ণিঝড়ের নাম কে রাখে, কীভাবে ঠিক হয় সেই নাম?

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১২ আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১২

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঝড়টির নাম ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের নাম কে ঠিক করে, আর কেনই বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের এমন আলাদা নাম রাখা হয়?

আসলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ কোনও ব্যক্তি বা একটি দেশের ইচ্ছামতো করা হয় না। এর জন্য রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিয়ম ও আগাম প্রস্তুত করা নামের তালিকা। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এই ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। 

ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখে কারা?

বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের দায়িত্ব উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। এ ব্যবস্থায় ১৩টি দেশ নাম প্রস্তাব করে। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

প্রতিটি দেশ আগাম কিছু নাম জমা দেয়। এরপর নির্ধারিত ক্রম অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ব্যবহার করা হয়। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে ভারতের আবহাওয়া বিভাগের আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্র (আরএসএমসি), যখন ঝড়টি নাম দেওয়ার জন্য নির্ধারিত তীব্রতায় পৌঁছায়। 

বাংলাদেশও এই তালিকার জন্য নাম প্রস্তাব করে। যেমন— ‘অর্ণব’ নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নামগুলোর একটি। তবে কোনও দেশ নাম প্রস্তাব করলেই সেই দেশের উপকূলে ঝড়টি আঘাত হানবে, এমন নয়। নামের তালিকা থেকে ধারাবাহিকভাবে নাম ব্যবহার করা হয়, আর ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ নির্ভর করে আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর।  

ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হয় কেন?

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা এবং এর বিষয়ে সতর্কবার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে শুধু অবস্থানাঙ্ক বা কারিগরি পরিচয় ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের পক্ষে নির্দিষ্ট ঝড়টি মনে রাখা কঠিন হতে পারে। কিন্তু একটি পরিচিত নাম ব্যবহার করলে সংবাদমাধ্যম, আবহাওয়াবিদ, উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারেন কোন ঝড়ের কথা বলা হচ্ছে। 

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নামকরণের ফলে সতর্কবার্তা আদান-প্রদান সহজ হয়, একাধিক ঝড়ের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি কমে এবং দুর্যোগের প্রস্তুতি সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ে। 

ধরা যাক, একই সময়ে একাধিক সামুদ্রিক ঝড় তৈরি হয়েছে। প্রতিটি ঝড়ের আলাদা নাম থাকলে কোনটির গতিপথ কোথায়, কোন অঞ্চলে সতর্কতা জারি হয়েছে এবং কোন ঝড়ের প্রভাব কেমন হতে পারে এসব তথ্য আলাদা করে বোঝানো সহজ হয়।

নামগুলো কীভাবে বেছে নেওয়া হয়?

ঘূর্ণিঝড়ের নাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম রয়েছে। নামগুলো সাধারণত সংক্ষিপ্ত, সহজে উচ্চারণযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিত হওয়ার উপযোগী করে নির্বাচন করা হয়। পাশাপাশি নাম যেন অন্য নামের সঙ্গে সহজে গুলিয়ে না যায়, সেটিও বিবেচনা করা হয়।

উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত নামগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে ব্যবহার করা হয়। একবার কোনও নাম ব্যবহার হয়ে গেলে এই অঞ্চলের তালিকায় সেটি আবার ব্যবহার করা হয় না। ফলে প্রতিটি নতুন ঘূর্ণিঝড়ের জন্য তালিকা থেকে পরবর্তী নামটি নেওয়া হয়। 

ঘূর্ণিঝড়ের নাম সব সময় কোনো ব্যক্তি বা জায়গার নামে রাখা হয়—এমন ধারণাও সঠিক নয়। নামের উৎস হতে পারে বিভিন্ন ভাষার শব্দ, প্রকৃতি কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশের প্রস্তাবিত অন্য কোনো নাম। তবে নামটি যেন আপত্তিকর না হয় এবং সহজে ব্যবহার করা যায়, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

নাম থাকলেই কি ঝড়ের ভয়াবহতা বোঝা যায়?

না। ঘূর্ণিঝড়ের নামের সঙ্গে এর শক্তি বা ধ্বংসক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক নেই। নামটি মূলত ঝড়টিকে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। একটি ঝড় কতটা শক্তিশালী, বাতাসের গতি কত, কোথায় আঘাত হানতে পারে এবং কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এসব জানতে আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে হয়।

কোনও ঘূর্ণিঝড়ের নাম পরিচিত বা আকর্ষণীয় হলেই সেটি বেশি শক্তিশালী, এমন নয়। আবার তুলনামূলক সাধারণ নামের ঝড়ও ভয়াবহ হতে পারে। তাই নামের চেয়ে ঝড়ের অবস্থান, তীব্রতা, সম্ভাব্য গতিপথ এবং সরকারি সতর্কবার্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ঘূর্ণিঝড়ের নাম জানার পাশাপাশি সতর্ক থাকাও জরুরি

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুধু পরিচিতির জন্য নয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যোগাযোগ সহজ করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। ‘অর্ণব’-এর মতো কোনও ঝড়ের নাম সংবাদে শুনলে সেই ঝড় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা, আবহাওয়ার সতর্কতা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

সবশেষে, ঘূর্ণিঝড়ের নাম কোনও একক ব্যক্তি ঠিক করেন না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিয়মে নাম ব্যবহার করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা, সতর্কবার্তা পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়ানো।

/জেএ/এসটি/ 
সম্পর্কিত
দূষিত বাতাসের শীর্ষ ১৫ শহরের তালিকায় আজ ঢাকা
ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: চার সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত
১৫০ কিলোমিটার বেগে উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‌‘অর্ণব’
সর্বশেষ খবর
হঠাৎ হাসপাতালে গিয়ে ১২ চিকিৎসককে পেলেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
হঠাৎ হাসপাতালে গিয়ে ১২ চিকিৎসককে পেলেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
‘লোক দেখানো ভারত বিরোধিতার নামে ভণ্ডামি করছে জামায়াত’ 
‘লোক দেখানো ভারত বিরোধিতার নামে ভণ্ডামি করছে জামায়াত’ 
স্টুডিয়োর মেঝে পরিষ্কার, শৌচাগার থেকে বমি সরানো—নায়িকা হওয়ার আগে আর কী করতেন রাভিনা
স্টুডিয়োর মেঝে পরিষ্কার, শৌচাগার থেকে বমি সরানো—নায়িকা হওয়ার আগে আর কী করতেন রাভিনা
ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটুনি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন যুবক
ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটুনি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন যুবক
সর্বাধিক পঠিত
জেলেদের কাছ থেকে উদ্ধার ৯০ কেজি ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ
জেলেদের কাছ থেকে উদ্ধার ৯০ কেজি ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ
‘আপনাদের সম্মানি দিচ্ছি, ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন’
‘আপনাদের সম্মানি দিচ্ছি, ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন’
গরু-ছাগল ছেড়ে মরুর দুম্বা পালন, নতুন সম্ভাবনা দেখছেন খামারি
গরু-ছাগল ছেড়ে মরুর দুম্বা পালন, নতুন সম্ভাবনা দেখছেন খামারি
জামায়াত এমপির হোটেল-রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করলো প্রশাসন, কারণ কী?
জামায়াত এমপির হোটেল-রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করলো প্রশাসন, কারণ কী?
কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী
কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী