যশোরে চার বছর ধরে পাওনা টাকা ফেরত না পেয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন আল আমিন নামের এক ব্যক্তি। পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে দেনাদারের বাড়ির সামনে ব্যানার-ফেস্টুন টানিয়ে ও ‘সাউন্ড বক্স’ বাজিয়ে অনশনে বসেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে যশোর শহরের আরএন রোড এলাকার ‘রওনক সানফ্লাওয়ার’ টাওয়ারের সামনে অনশনে বসেন। এ সময় প্রতীকী অনশনের প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থানের সময় আলামিনের পাশে বাঁজতে থাকে সাউন্ড বক্স। রেকর্ডিং করা সেই বক্সে বাজতে থাকে পাওনা টাকার বিবরণ। ভুক্তভোগীর এমন প্রতিবাদ দেখে পথচারীসহ স্থানীয় লোকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
অনশনকারী আল আমিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। প্রবাসে থাকাকালে তার বিয়াই মিজানের মাধ্যমে জানতে পারেন, শাহরিয়ার পলাশ নামে এক ব্যক্তি একটি দোকান বিক্রি করবেন। দোকানটি কেনার জন্য চার বছর আগে মিজানের মাধ্যমে শাহরিয়ার পলাশকে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন আল আমিন। টাকা পরিশোধের পর দোকানটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও পলাশ নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে আল আমিন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, যে দোকানটি তার কাছে বিক্রির কথা বলা হয়েছিল, সেটির মালিকানা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ আছে। পলাশ এককভাবে দোকানটির মালিক নন। বিষয়টি জানার পর আল আমিন দোকান রেজিস্ট্রি না নিয়ে তার পাওনা টাকা ফেরত চান। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে শাহরিয়ার পলাশ বিভিন্ন কৌশলে তাকে ঘোরাতে থাকেন।
নিজের শারীরিক ও আর্থিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে আল আমিন বলেন, ‘সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর আমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার এক পায়ে অস্ত্রোপচার করে রড বসানো হয়েছে এবং পায়ুপথেও অপারেশন করা হয়েছে। চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে অর্থকষ্টে ভুগছি। পাওনা টাকা ফেরত পেতে বারবার যোগাযোগ করেও পলাশের সাড়া পাইনি। বাধ্য হয়ে পাওনা আদায়ের জন্য অনশনে বসেছি।’
টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন শাহরিয়ার পলাশ। তিনি বলেন, ‘পরিবারের শরিকদের মতবিরোধের কারণে আল আমিনের কাছে দোকানটি হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। দোকানটি অন্য কোথাও বিক্রি করার চেষ্টা চলছে; এটি বিক্রি করতে পারলেই আল আমিনের পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুম খান বলেন, ‘অনশনের ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু ভুক্তভোগী থানায় কোনও অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









