ডিজিটাল রূপান্তর এবং গ্রাহকবান্ধব নানামুখী উদ্যোগে সেবার মানে বদলে গেছে সাতক্ষীরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের চিত্র। সরকারি ফি জমা থেকে শুরু করে আবেদন গ্রহণ ও পাসপোর্ট বিতরণ-সবকিছুতেই আনা হয়েছে আধুনিকতা, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা।
আগে পাসপোর্ট ফি প্রদান নিয়ে গ্রাহকদের নানা ভোগান্তি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে আধুনিক ‘ই-চালান’ ও অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ফি সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হচ্ছে। এর ফলে সেবাগ্রহীতারা কোনও ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের খপ্পরে না পড়ে সরকারি নির্ধারিত ফি সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দিতে পারছেন। এই পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে যেমন শতভাগ আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে, তেমনি রাজস্ব সংক্রান্ত তথ্যও সরাসরি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে সংরক্ষিত হচ্ছে।
পাসপোর্ট অফিস ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন সেবাগ্রহীতারা পাসপোর্ট নিতে ও আবেদন করতে এলেও আগের মতো দীর্ঘ লাইনের বিশৃঙ্খলা নেই। লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি এড়াতে চালু করা হয়েছে ‘ই-কিউ’ (ইলেকট্রনিক কিউ) টোকেন প্রথা। এতে করে যার আবেদন আগে, তিনি ক্রমানুসারে দ্রুত সেবা পাচ্ছেন। এছাড়াও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, প্রবীণ নাগরিক, শিশু ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা কাউন্টার ও বিশেষ অগ্রাধিকার সুবিধা। পুরো অফিস প্রাঙ্গণ সিসিটিভির আওতাভুক্ত থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের সঠিক জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হচ্ছে।
আশাশুনির কুল্যা ইউনিয়নের আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনও দালালের কাছে না গিয়ে সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়ে নিজেই পাসপোর্ট করেছি। এখানকার ই-কিউ টোকেন সিস্টেম আর কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার কারণে খুব সহজেই অল্প সময়ে সব কাজ শেষ করতে পেরেছি। আগে শুনতাম পাসপোর্ট অফিসে নাকি হয়রানি হতে হয়, কিন্তু এবার নিজে এসে একদম ভিন্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় অভিজ্ঞতা পেলাম।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, দালালমুক্ত পরিবেশ এবং কর্মকর্তাদের ইতিবাচক প্রশাসনিক মনোভাবের কারণে সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসের ভাবমূর্তি ও সেবার মান এখন স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে।
অফিসের সার্বিক আবেদন ও বিতরণের পরিসংখ্যান তুলে ধরে পাসপোর্ট অফিসের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের এখানে পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ ও বিতরণের কাজটি অত্যন্ত গতিশীল ও নিয়মিত প্রক্রিয়ার মধ্যে চলছে। গত এক বছরে প্রায় ১৪ হাজার পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়েছে এবং তার বিপরীতে প্রায় সমপরিমাণ প্রস্তুতকৃত পাসপোর্ট সফলভাবে সেবাগ্রহীতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
বর্তমানে পাসপোর্ট আবেদনের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় প্রেক্ষাপট নিয়ে পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বশীল অপর এক কর্মকর্তা জানান, ‘আগে পাসপোর্টের বিপুল চাপ থাকলেও বর্তমানে নতুন আবেদনের হার কিছুটা কমেছে। মূলত ভারতীয় ভিসা পাওয়ার জটিলতা এবং খুলনা বা সাতক্ষীরা অঞ্চলে সুনির্দিষ্ট ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) না থাকায় সাধারণ মানুষ পাসপোর্ট করতে কিছুটা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।’
তিনি আরও জানান, বিশেষ করে শ্যামনগর, আশাশুনি ও দেবহাটার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ মূলত চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে যান। কিন্তু এখন ভারতীয় ভিসার জন্য সরাসরি ঢাকায় গিয়ে আবেদন করতে হয়, যা স্থানীয়দের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়বহুল ও চরম ভোগান্তির। ফলে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলেও অনেকে এখন তা নতুন করে রিনিউ বা আবেদন করছেন না।
সার্বিক প্রশাসনিক সুশাসন নিয়ে পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আশিষ কুমার দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহক ভোগান্তি শূন্যে নামিয়ে আনা। ই-চালানের মাধ্যমে ফি জমা হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিরাপদ হয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আমরা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শতভাগ আন্তরিকতা নিয়ে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’









