আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘আমাদের দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী যদি পাস না করে তাহলে সেই ইউনিয়নে কোনও কাজ হবে না। আমার কাছে যেতে পারবেন না, আমি কোনও কাজ দেবো না। ওই ইউনিয়নের কপাল পুড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক কাজ দিয়েছি, সেসব কাজ বাস্তবায়ন হবে। তবে দলের মনোনীত প্রার্থী পাস না করলে চলমান কাজও বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
চুরির একটি গল্পের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যদি হয়, আর সেই নির্বাচনে দলের প্রার্থী যদি পাস না করেন, তাহলে আপনাদের আলমারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বামনা আসমাতুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধী দলের উদ্দেশে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেন, ‘একটা সন্তান ভূমিষ্ঠ হতে ১০ মাস সময় লাগে, আর আমরা গদিতে বসেছি পাঁচ মাস হলো। এর মধ্যেই বলে, গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছেড়ে দে। গদি কি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বসেছি?’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎ দিতে পারিনি। তারেক সাহেব পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি ক্ষমা চাইবেন কেন? তিনি তো প্রধানমন্ত্রী।’
সাবেক পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট এনেছে হাসিনা, এনেছে নাম। দুইশ মেগাওয়াট বানাবে, পাঁচশ মেগাওয়াট বানাবে—এমন কথা বলে সেগুলো এনে সাগরে ফেলে রেখেছে। পাঁচশ মেগাওয়াটের জন্য প্রতি মাসে তাকে ২০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যে প্ল্যান্ট আনা হয়েছে, সেটি খারাপ; সেটি দিয়ে কোনো দিনই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়নি। এভাবে শুধু বিদ্যুৎ খাত থেকেই প্রায় এক লাখ কোটি টাকার বেশি পাচার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটি পাওয়ার প্ল্যান্টের বিষয়ে বলি, আদানির পাওয়ার প্ল্যান্টের সঙ্গে যে দামে চুক্তি করা হয়েছে, সেই টাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাঁচটি পাওয়ার প্ল্যান্ট করা সম্ভব। এই হাসিনা বাংলাদেশ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার করে বিদেশে নিয়ে গেছেন। এখন ভারতে বসে পা দোলান আর খান।’
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেন, ‘আমাদের সংখ্যালঘু ভাইদের সামনে দুর্গাপূজা। আপনাদের একটা কথা বলি, সংখ্যালঘুদের দিকে কেউ বাঁকা চোখে তাকালে তার চোখ থাকবে না, চোখ উপড়ে ফেলবো।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে কোনও সংখ্যালঘু নেই। একই মানুষ এক জায়গায় বসবাস করি। স্বাধীনতাযুদ্ধ কি একসঙ্গে করিনি? ২০২৪ সালের আন্দোলন কি একসঙ্গে করিনি? তাহলে তারা সংখ্যালঘু হলেন কেন? এ দেশের সংবিধান অনুযায়ী, তারা এ দেশের নাগরিক। একজন নাগরিকের যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে, তারা সবই পাবেন।’