তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির। কিন্তু এখনও কান্না থামেনি স্বজনহারা পরিবারগুলোর। রানা প্লাজা ধসে নিহত কুষ্টিয়ার দশ শ্রমিক পরিবার অর্থকষ্টে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। গত তিন বছরে সরকারি-বেসরকারি কোনও প্রতিষ্ঠান থেকে তেমন কোনও সহায়তা পাননি তারা। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারের সদস্যরা এসব কথা জানান।
নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, রানা প্লাজা ধসে কুষ্টিয়ার ১০জন নিহত হয়। এরমধ্যে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গোপ গ্রামের সেকেন আলীর মেয়ে নাজমা খাতুন, একই উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের ফরিদ আলীর মেয়ে জোসনা খাতুন, কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের আলমের মেয়ে শহিদা বেগম, একই উপজেলার জগ্ননাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামের শ্যামল চন্দ্র ঘোষের ছেলে দীপঙ্কর ঘোষ, দৌলতপুর উপজেলার মহিষকুণ্ডি ইউনিয়নের তরিঘোলা বিশ্ববাট গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম, একই উপজেলার হরিণগাছি গ্রামের নওয়াব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামের আনসার আলীর ছেলে মাসুদ রানা, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামের এক মেয়ে ও কুমারখালীর দুর্গাপুর এলাকার এক যুবক নিহত হয়।
রানা প্লাজা ধ্বসে নিহত দিপঙ্করের মা গীতা রাণী ঘোষ বলেন, দুই সন্তানের মধ্যে দীপঙ্করই ছিলো একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
শাহিদার মা জানান, উপার্জনক্ষম মেয়েকে হারিয়ে এখন সংসার চালাতে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা তার। ভাঙা সংসার আর অবুঝ শিশুর সঙ্গে শোকের জগদ্দল পাথর নিয়ে দিন কাটছে তাদের।
বৃদ্ধা গীতা রাণী ঘোষের খোঁজ নেয়নি কেউ। রানা প্লাজা ধসের তিন বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও কুষ্টিয়ার নিহত আর নিখোঁজ শ্রমিক পরিবারের দিন কাটছে অভাব-অনটনে, বুকফাটা কান্না আর হতাশায়।
নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ ও সুদৃষ্টির আবেদন করেন।
আরও পড়ুন:
গ্রেফতার যুবক রাবি ছাত্র ও শিবির নেতা
/এনএস/টিএন/আপ-এআর/







