সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য এবং বিভিন্ন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অশ্লীল তথ্য প্রকাশের অভিযোগে কোতোয়ালী থানায় দুটি মামলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আমিনুল হক সোমবার ২৮ শিক্ষার্থীকে আসামি করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দুইটি (১১২ ও ১১৩) দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আতিক রহমান, যবিপ্রবির সাবেক ছাত্র আশরাফুল আলম, স্মাতক বর্ষের ছাত্র পিয়াস বিশ্বাস, ‘অ্যাডমিন প্যানেল’ নামধারী একজন, জিন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্র নাসিরউদ্দিন বাদল, পাভেল মাহমুদ, মাহফুজুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের বোরহান উদ্দিন, অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের নাজিবুল্লাহ শেখ নাজিম, মোহাম্মদ তাওয়াবুর, ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের মাহাবুবুর রহমান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলোজি বিভাগের সাইফুজ্জামান সুজ্জল, জিন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগের শরীফ আল মুতি, রাসেল উদ্দিন, ইসমাইল হোসেন, সরকার কৌশিক, আহমেদ, কাজী লিমন আহমেদ, পরিবেশ বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের এবিএম ফরহাদ, আসাদুজ্জামান, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের রাকিব চৌধুরী, মোহাম্মদ শিমুল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের তরিকুল ইসলাম শুভ, নাজমুল হুদা নাজ এবং নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলোজি বিভাগের ছাত্র ফিরোজ মাহমুদ।
আরও পড়তে পারেন: শাহজালালে যাত্রীদের ভরসা ম্যাজিস্ট্রেট, ফেসবুকেও মেলে সমাধান
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলোজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র নাসিরউদ্দিন বাদলের নেতৃত্বে কিছুসংখ্যক ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র নিরাপত্তা প্রহরী বদিউজ্জামান বাদলের ভাইকে নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাদলকে পিটিয়ে আহত করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত কমিটির সুপারিশে ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত যবিপ্রবির রিজেন্ট বোর্ড অভিযুক্ত ছাত্র নাসিরউদ্দিন বাদলকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং অন্য চার ছাত্রকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সুপারিশ করে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ব্যতিত ফেসবুক আইডি খুলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করা, উস্কানিমূলক বক্তব্য, গালিগালাজ, হুমকি ও অযৌক্তিক আন্দোলনের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী। এ অভিযোগগুলো তদন্ত করে ফেসবুক আইডিগুলো শনাক্ত করে তা বন্ধ এবং তা পরিচলানাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা এজাহারে বলা হয়েছে। পূর্বে শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সর্তক করা হয়েছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
যবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন, ছাত্রদের আগেই এই বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা শোনেননি। ফলে রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আরও পড়তে পারেন: ক্রিকেট খেলা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১
/এমও/








