কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ঘর-বাড়িসহ বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় গত শুক্রবার (১১ মে) ভোর থেকে জেলা শহরসহ অধিকাংশ উপজেলা অন্ধকারাচ্ছন্ন রয়েছে। এ কারণে জনজীবনে বিপর্যয়ের পাশাপাশি চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মের ভয়ে আতঙ্কে রয়েছে শহরবাসী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় চার দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সন্ধ্যার পরপরই অন্ধকারে ডুবে যায় পুরো শহর। এসময় চুরি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের আতংক বিরাজ করে স্থানীয়দের মাঝে। সন্ধ্যার পরপরই সবাই চেষ্টা করে ঘরে ফিরে আসার। এতে নেত্রকোনার জনজীবনে এক স্থবিরতা নেমে এসেছে।
এদিকে, বিদ্যুৎ না থাকায় দেখা দিয়েছে পানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদার তীব্র সমস্যা। মোবাইলে চার্জ না থাকায় ফোন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্বাভাবিক যোগাযোগে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। শহরের সাধারন মানুষের চলাচলের অটোরিকশা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যে কয়েকটি শহরের রাস্তায় চলছে তারা যাত্রীদের কাছ থেকে নিচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ও জেনারেটর না থাকায় নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনেরা চরম দুভোর্গে পড়েছে।শিশু ওয়ার্ডের রোগীরা বিদ্যুতের কারণে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এছাড়াও ভর্তিকৃত রোগীরা হাসপাতালের বেড থেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। পর্যাপ্ত পানি সরবারাহ না থাকায় ময়লা ও দুর্গন্ধে ভাসছে হাসপাতালের শৌচাগার গুলো।
নেত্রকোনা বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবারের কালবৈশাখী ঝড়ে নেত্রকোনা জেলা সদরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় ঘর-বাড়ির পাশাপাশি বিদ্যুতের শতাধিক খুঁটি উপড়ে পড়ে ও ভেঙে যায়। এছাড়া জেলার বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় বিভাগের (পিডিবি) ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্ট) লাইনের ৭টি খুঁটি উপড়ে পড়ে,এছাড়াও ৩০টি ১১ কেভি খুঁটি ও ২টি গাছ বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে যায়। অপরদিকে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৯০টি খুঁটি ভেঙে গিয়ে জেলার কেন্দুয়া, আটপাড়া, মদন, সদর উপজেলাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিদ্যুৎ বিছিন্ন রয়েছে।
নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, ‘শহরটিরাতের বেলায় একটি অন্ধকারা শহরে পরিনত হয়। এতে চুরি, ছিনতাইয়ের আতঙ্কে রয়েছে শহরের সাধারণ মানুষ।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিদিন রাতে ডিউটিরত পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত পুলিশ টহল দিচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় মোটরসাইকেল দিয়ে পুলিশ বাহিনী টহল দিচ্ছে।’
নেত্রকোনা পিডিবির নিবার্হী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কয়েকদিনের মধ্যে জেলার সব জায়গায় বিদ্যুৎ সরবারাহ দেওয়া সম্ভব হবে।’








