সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এমডি রাকিবিল্লাহকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে সাত কর্মদিবসের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জুন) বিকালে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীনা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন তালুকদার বাবুল স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিনা বেগম বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এমডি রাকিবিল্লাহকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।’
বহিষ্কারাদেশের চিঠিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমের হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে আপনার সম্পৃক্ততা জোরালোভাবে পরিলক্ষিত হয়। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় আপনার উপস্থিতি দলীয় ভাবমূর্তি প্রচণ্ডভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ায় আপনাকে আওয়ামী লীগ বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। সেইসঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আপনাকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো। কেন আপনাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, এ মর্মে পত্রপ্রাপ্তির সাত কর্মদিবসের মধ্যে আওয়ামী লীগ বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি-সম্পাদকের কাছে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলো।’
এর আগে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম বাবুকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া বাবুর ছেলে ও হত্যা মামলার আসামি ফাহিম ফয়সাল রিফাতকে ছাত্রলীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। রিফাত বকশীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
গত বুধবার রাত ১০টার দিকে বাড়িতে ফেরার পথে বকশীগঞ্জের পাটহাটি মোড়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম। এ সময় তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।









