খনন ও উচ্ছেদ না করায় ময়মনসিংহ নগরীর প্রধান তিন খাল সেহরা, মাকড়জানি ও কাটাখালিতে ময়লা-আবর্জনা জমে ভরাটসহ জবরদখল হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে নগরীতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। সমস্যা সমাধানে নানা উদ্যোগের কথা জানালেন সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু।
ইতোমধ্যে নগরীর একাংশে আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ বসিয়ে এর পানি পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদে ফেলা হচ্ছে। তবে দক্ষিণ ও পশ্চিমাংশের পানি নিষ্কাশনে খাল খননের পাশাপাশি খালের ওপর থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নগরীর মাল গুদাম, সেহরা মুন্সিবাড়ি, চামড়া গুদাম, চরপাড়া মোড়, চরপাড়া কপিক্ষেত, নয়াপাড়া, মাসকান্দা ও দীঘারকান্দা হয়ে সেহরা খালটি মিশেছে নগরীর দক্ষিণাংশের পাগারিয়া নদীতে। আবার পাগারিয়া খালের প্রবাহ মিশেছে পুরোনো ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে। নগরীর বাঘমারা ও কৃষ্টপুর এলাকার পানিও নিষ্কাশিত হয়ে থাকে সেহরা খালে। কিন্তু খালের চরপাড়া মোড়, নয়াপাড়া, মাসকান্দা ও দীঘারকান্দা অংশের বেশিরভাগ দখল হয়ে গেছে। গার্ড দেয়ালের ওপর অনেকে নির্মাণ করেছেন বহুতল স্থাপনা। অনেক জায়গা জবরদখলের কারণে সরু হয়ে ড্রেনের মতো হয়ে গেছে।
খনন না করায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে ভরাট হয়ে গেছে পুরো খাল। জবরদখল ও ভরাটের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতে খাল উপচে পানির প্রবাহ ছড়াচ্ছে সড়কের ওপর। আর ভারী বর্ষণ হলে তো কথাই নেই। খালের ময়লাযুক্ত পানি ঢুকে পড়ে নগরীর বাসাবাড়িতে।
একই অবস্থা মাকড়জানি ও কাটাখালি খালের। গুরুত্বপূর্ণ মাকড়জানি খালটি নগরীর রামবাবু রোড ও বিদ্যাময়ী স্কুলের পাশ থেকে নতুন বাজার লেভেল ক্রসিং, সুইপার কলোনি, নওমহল, আকুয়া ও দীঘারকান্দা হয়ে মিশেছে দক্ষিণের পাগারিয়া নদীতে। ময়লা আবর্জনার স্তূপ জমে এই খালেরও এখন মরণদশা। দখল, ভরাট ও দূষণে অনেক জায়গায় খালের অস্তিত্বই নেই। কাটাখালি খাল ভরাটের কারণে কলেজ রোড ও আউটার স্টেডিয়াম এলাকার বেশিরভাগ বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েন নগরবাসী।
আউটার স্টেডিয়াম এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম অভিযোগ করে জানান, সিটি করপোরেশের গাফিলতির কারণেই প্রতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
মেয়র ইকরামুল হক টিটু জানান, খাল খননসহ দখলমুক্ত করতে সার্ভে করার জন্য প্যানেল মেয়র দুলাল উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর বড় আকারে খাল খনন ও দখল, দূষণ ঠেকাতে প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। এসব খালের পানির প্রবাহ বাড়িয়ে সৌন্দর্য বর্ধন করা হবে।
এদিকে নগরীর ব্রহ্মপুত্র লাগোয়া গাঙিনাপাড়, দুর্গাবাড়ি রোড, মহারাজা রোড, স্টেশন রোডসহ আশপাশ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ বসানো হয়েছে। নগরবাসী ইতোমধ্যে এর সুফল পাচ্ছেন। আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে এসব এলাকার পানি ফেলা হচ্ছে পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদে। ফলে বৃষ্টির পর দ্রুত সময়ে পানি নেমে যাওয়ায় কমে গেছে ভোগান্তি।
নগরবিদরা জানান, পুরো ময়মনসিংহ শহরকে এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হলে নগরবাসীর ভোগান্তি থাকবে না।









