শেরপুরে আদালতের হাজতখানা থেকে পালিয়েছে চাঞ্চল্যকর জাল টাকার মামলার রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি রাজু আহমেদ (২৫)। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে জেলা জজ ভবনের নিচে থাকা হাজতখানায় এই ঘটনা ঘটে।
পালানো রাজু আহমেদ নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে। খবর পেয়ে বিকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নবাগত কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকেই পালিয়ে যাওয়া আসামি রাজু আহমেদকে আটক করার চেষ্টা চলছে। একই সাথে এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আদালত সূত্র জানায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঝিনাইগাতী উপজেলার ফুলহাড়ি ও বাকাকুড়া এলাকায় জাল টাকায় কেনাকাটা করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে পলাতক রাজু আহমেদসহ নালিতাবাড়ী উপজেলার পশ্চিম গুগড়াকান্দি গ্রামের শহিজ উদ্দিন আহালুর ছেলে শাহিন (২৭) ও নকলা উপজেলার ভুরদী গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাবু (৬৫)। পরে ঝিনাইগাতী থানায় জাল টাকা হেফাজতে রাখা ও কারবারের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা রুজু হয়।
সেই মামলায় মঙ্গলবার বিকালে ঝিনাইগাতী জিআর আমলি আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে প্রত্যেক আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভপর্ণা চন্দ। পরে বিকাল ৪টার দিকে ওই তিন আসামিকে আদালত থেকে কোর্ট হাজতখানায় নিয়ে যান কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। এর কিছুক্ষণ পরই রাজু ও শাহিন কৌশলে পালালে আদালত অঙ্গনেই আটক হন শাহিন।
এ বিষয়ে নবাগত কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউর রহমান জানান, রিমান্ড শুনানির পর তিন জনকেই হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। এর কিছুক্ষণ পর বয়স্ক আসামি আনোয়ার হোসেন বাবু অসুস্থতার কথা জানালে হাজতখানার দরজার তালা খুলে তার সঙ্গে হাজত ইনচার্জ এসআই আব্দুল বারী কথা বলতে গেলে ওই সুযোগে রাজু আহমেদ ও শাহিন নামে দুই জন হাজতখানা থেকে দৌড়ে পালায়। একপর্যায়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা জনতার সহায়তায় তাৎক্ষণিক শাহিনকে ধরতে পারলেও রাজু আহমেদ পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।









