পাঁচ দিন আগে ময়মনসিংহ নগরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়েছিল পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এ সময় পাঁচতলার ছাদ থেকে পড়ে ফয়সাল খান শুভ (৩০) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টিকে ‘দুর্ঘটনা’ বলছে পুলিশ।
ফয়সাল খান শুভ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর এলাকার মো. সেলিম খানের ছেলে। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করে নগরের কেওয়াটখালী পাওয়ার হাউজ সড়কের ভগ্নিপতির বাসায় বসবাস করে চাকরির চেষ্টা করছিলেন। গত ১০ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে কেওয়াটখালী পাওয়ার হাউজ রোডের ওই বাসার ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন ফয়সাল। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম খান মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফয়সালের পরিবার জানায়, স্থানীয় এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ফয়সালের। সম্প্রতি তরুণীর সরকারি চাকরি হয়। এরপর অন্য জনের প্রেমে পড়েন এবং ফয়সালের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এর মধ্যে তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) বিয়ের কথা ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তরুণীর প্রেমিকের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে তাদের চার বছরের সম্পর্কের কথা জানান ও কিছু ছবি-ভিডিও পাঠান। পরে বিষয়টি মেয়ের পরিবারকে জানালে দেখা দেয় বিপত্তি। এ অবস্থায় তরুণীর বাবা গত ১ নভেম্বর ঈশ্বরগঞ্জ থানায় ফয়সালসহ চার জনকে অভিযুক্ত করে পর্নোগ্রাফি আইনে লিখিত অভিযোগ করেন।
গত ১০ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডিবি পুলিশ কেওয়াটখালী পাওয়ার হাউজে ফয়সালের ভগ্নিপতির বাসায় অভিযান চালায়।। এ সময় ডিবির সঙ্গে তরুণীর বাবা এবং দুই ভাই ছিলেন। ডিবি বাসায় ঢুকতে চাইলে ফয়সালের ভগ্নিপতি গেট খুলে দেন। তারা বাসার দোতলায় তল্লাশি চালান। তখন ফয়সালকে না পেয়ে তরুণীর বাবা ও দুই ভাই বাসার ছাদে ওঠেন। সেখানে ফয়সালকে পেয়ে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। পরে ডিবির সঙ্গে বের হয়ে যান তারা। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর প্রতিবেশী রিপন মিয়া চিৎকার করে বলতে থাকেন, কে একজন মাটিতে পড়ে আছেন। রিপনের চিৎকার শুনে ভগ্নিপতি মোহসিন ও বোন সুমি আক্তার নিচে গিয়ে ফয়সালকে পড়ে থাকতে দেখে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে আনেন। শুক্রবার সকালে সেখানে ফয়সালের মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে জানতে ওই তরুণীর বাবার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকে তরুণীর পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সেদিন আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে বাসায় অভিযানে গিয়েছিলাম। ফয়সালের দুলাভাই গেট খুলে দিলে ভেতরে প্রবেশ করি। পরে বাসায় তাকে না পেয়ে চলে আসি। ফয়সাল কীভাবে ছাদ থেকে পড়েছে, তা আমার জানা নেই।’
স্বজনরা অভিযোগ করেছেন তরুণীর বাবা ও ভাইয়েরা ফয়সালকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে পুলিশ নিয়ে তাড়াহুড়ো করে বাসা থেকে বেরিয়ে গেছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এমন কোনও সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে পারবেন, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশের তাড়াহুড়ো ছিল না। এটি একটি দুর্ঘটনা ছাড়া কিছুই নয়।’
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ফয়সালের লাশের ময়নাতদন্ত ঢাকায় হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো আমরা। তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’








