ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া এম ইকবাল হোসেইন ও মনোনয়নবঞ্চিত নেতা আহম্মেদ তায়েবুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অসুস্থ হয়ে তানজিম আহমেদ আবিদ (৩০) নামে ছাত্রদলের এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (০৯ নভেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্য বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আট জন আহত হয়েছেন। তারা গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
মৃত তানজিম আহমেদ উত্তর জেলা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত এবং ইকবাল হোসেইনের সমর্থক ছিলেন।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ-৩ আসনে এবার দলীয় মনোনয়ন পান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেইন। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে তাকে পরিবর্তনের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন মনোনয়নবঞ্চিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমানের সমর্থকরা।
দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে রবিবার এলাকায় যান ইকবাল। গৌরীপুর কলেজ মাঠে বিকালে সমাবেশের ডাক দেন। অন্যদিকে গৌরীপুর মধ্য বাজার এলাকায় মহিলা দলের উদ্যোগে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সমাবেশের আয়োজন করেন মনোনয়নবঞ্চিত তায়েবুর রহমানের সমর্থকরা। বিকাল ৫টার দিকে ওই এলাকা দিয়ে কলেজ মাঠে যাচ্ছিলেন ইকবালের সমর্থকরা। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মহিলা দলের সমাবেশের চেয়ার ও মঞ্চ ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বেশ কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সংঘর্ষের মধ্যে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন তানজিম। তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল না।’
উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন তালুকদার আকাশ বলেন, ‘সমাবেশের শেষপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তানজিম। এ সময় মাথায় পানি ঢেলে সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু জ্ঞান না ফেরায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হোসেইন বলেন, ‘পুলিশের অনুমতি নিয়ে আজ এলাকায় যাই আমি। কিন্তু আমাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা ছিল প্রতিপক্ষের, এমনটি জানতে পারি। আমাদের লোকজন মিছিল নিয়ে আসার সময় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। আমাদের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তারপরও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সভা শেষ করেছি। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি পক্ষ আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমানকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি তিনি।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় কারও আঘাতে অসুস্থ হননি তানজিম। এমনকি কেউ মারধরও করেনি। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।’
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার বলেন, ‘সংঘর্ষের মধ্যে অসুস্থ হয়ে তানজিমের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে প্রাথমিকভাবে আঘাতের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আট জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সবাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’
জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তানজিমকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে তার শরীরে আঘাতের কোনও চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








