নেত্রকোনার চার আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বেশি, একটিতে ‘না’ জয়ী

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:১০আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:১০

নেত্রকোনার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় দিয়েছেন অধিকাংশ ভোটার। তবে একটিতে ‘না’ ভোট বেশি। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান নিজ কার্যালয়ে বেসরকারি এই ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে আসনে ‘হ্যাঁ’-র তুলনায় ‘না’ ভোট বেশি পড়েছে।

পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া একটি আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গোলাম রব্বানী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৮৮ ভোট। কায়সার কামাল ৭০ হাজার ৮৫৫ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন খান লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ২৩ ভোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আলকাছ উদ্দিন মীর কাস্তে প্রতীকে ৪ হাজার ৪২৯ ভোট পান।

আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৬ হাজার ১৮২ জন। ভোটকেন্দ্র ১২৫টি। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬০৫টি, ‘না’ ভোট পড়েছে ৭৯ হাজার ৮২১টি এবং বাতিল হয়েছে ৪২ হাজার ৭৩০টি। মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ১৫৬টি। শতকরা হিসাবে ‘হ্যাঁ’ ৩০ দশমিক ১৬ শতাংশ, ‘না’ ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং বাতিল ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি চিকিৎসক আনোয়ারুল হক ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির ফাহিম রহমান খান পাঠান শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৬৭ ভোট। আনোয়ারুল হক ১ লাখ ৪ হাজার ৩২ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আবদুল কাইয়ুম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১৫ হাজার ২২০ ভোট ও জাতীয় পার্টির এ বি এম রফিকুল হক তালুকদার লাঙ্গল প্রতীকে ৪ হাজার ৮৪৫ ভোট।

আসনটিতে ভোটার ৫ লাখ দুই হাজার ৪৩৮ জন। ভোটকেন্দ্র ১৭৩টি। ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৩টি, ‘না’ ভোট পড়েছে ৭৯ হাজার ৭৫২টি এবং বাতিল হয়েছে ৩৬ হাজার ২৬২টি। শতকরা হিসাবে ‘হ্যাঁ’ ৩০ দশমিক ৬১ শতাংশ, ‘না’ ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং বাতিল ৭ দশমিক ২২ শতাংশ।

নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৯৬১ ভোট। রফিকুল ইসলাম হিলালী ৪৯ হাজার ৫০৮ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর খায়রুল কবীর নিয়োগী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৪১ হাজার ৫৫৬ ভোট, জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন তালুকদার লাঙ্গল প্রতীকে ৫৭৪ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাকির হোসেন হাতপাখা প্রতীকে ২ হাজার ৭৬০ ভোট পেয়েছেন।

আসনটিতে ভোটার ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৭ জন। ভোটকেন্দ্র ১৫০টি। ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫টি, ‘না’ ভোট পড়েছে ৬০ হাজার ৭৮৭টি এবং বাতিল হয়েছে ৪১ হাজার ৫৬৬টি। মোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৫৮টি। শতকরা হিসাবে ‘হ্যাঁ’ ৩২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ‘না’ ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং বাতিল ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট, কমিউনিস্ট পার্টির জলি তালুকদার কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৫৯ ভোট ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার কোদাল প্রতীকে পেয়েছেন ২৮২ ভোট। লুৎফুজ্জামান বাবর ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬১ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।

আসনটিতে ‘হ্যাঁ’-র চেয়ে ‘না’ ভোট বেশি পড়েছে। মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩১২ জন। ভোটকেন্দ্র ১৫০টি। ‘না’ ভোট পড়েছে ১ লাখ দুই হাজার ১১৩টি। ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৮২ হাজার ১২৫টি, বাতিল হয়েছে ২৭ হাজার ৯৭২টি। মোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ১২ হাজার ২১০টি। শতকরা হিসাবে ‘না’ ২৭ দশমিক ২১ শতাংশ, ‘হ্যাঁ’ ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং বাতিল ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাছুম মোস্তফা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮২ হাজার ১৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৪১২ ভোট। তাদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৭৬৫টি। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নুরুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ৩৪১ ভোট পেয়েছেন।

এখানে মোট ভোটার ২ লাখ ৯০ হাজার ১১৭ জন। ভোটকেন্দ্র ৮৩টি। ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৬৭১টি,
‘না’ ভোট পড়েছে ৪৪ হাজার ৫৭৩টি এবং বাতিল হয়েছে ২৩ হাজার ৭২০টি। মোট প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯৬৪টি। হিসাবে ‘হ্যাঁ’ ৩৪ দশমিক ৭০ শতাংশ, ‘না’ ১৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং বাতিল ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ।

/এএম/ 
সম্পর্কিত
‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না’
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
থানার ভেতরে আটকে বিএনপি নেতাকে মারলো কারা?
সর্বশেষ খবর
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের