ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) একটি বালুর ঘাট দখল করতে যাওয়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়েছে এলাকাবাসী। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও তার সহযোগীদের ১০-১২টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সরকারি কলেজ ঘাট বালুমহাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে গফরগাঁও উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘গতকাল বুধবার উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মুক্তার হোসেন তার দলবল নিয়ে সরকারি কলেজ এলাকায় বালুর ঘাট দখল করতে যান। এ সময় স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে তিনি দলবল নিয়ে ফিরে আসেন। বৃহস্পতিবার মুক্তার হোসেন বিশাল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে আবারও ঘাট দখল করতে যান। এ সময় তিনি এক নৌকার মাঝিকে পিটিয়ে আহত করেন এবং নৌকায় আগুন দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে তাকে এবং তার সহযোগীদের ধাওয়া করেন। এলাকাবাসীর এমন প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে যাওয়ার সময় মুক্তার ও তার লোকজনের অন্তত ১০-১২টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এলাকাবাসী। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। তবে এ ঘটনায় এক নৌকার মাঝি ছাড়া অন্য কেউ আহত হননি।’
জেলা যুবদলের নেতা আবদুল আজিজ সাদেক বলেন, ‘বালুর ঘাট দখল নিয়ে ছাত্রদল নেতা মুক্তার হোসেনের সঙ্গে এলাকাবাসীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে বলে শুনেছি।’
এ ব্যাপারে জানতে গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মুক্তার হোসেনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে কে বা কারা বালুর ঘাট দখল করতে এসেছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন এম আবদুল্লাহ আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারি কলেজ বালুর ঘাটটি বিআইডব্লিউটিএর অধীনে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। তবে কে বা কারা ঘাট দখল করতে গিয়েছিল, তা আমার জানা নেই।’









