দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদকে (বাচ্চু) কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিএনপি। দলের ওই নোটিশ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, তার এলাকায় কোনও সমস্যা নেই, সবকিছু চলছে স্বাভাবিকভাবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে ফখর উদ্দিন আহমেদের কাছে ওই নোটিশ পাঠানো হয়। এতে অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
ফখর উদ্দিন আহমেদ ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্বেও আছেন।
নোটিশ প্রসঙ্গে গতকাল রাতে কথা হয় ফখর উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দল যদি সুনির্দিষ্টভাবে আমার কাছে ব্যাখ্যা চায়, আমি অবশ্যই তা দেব। আমি দলের প্রতি আনুগত্যশীল। আমার এলাকায় কোনও সমস্যা নেই, সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে। গত সাড়ে চার থেকে পাঁচ মাসে যদি দখল বা এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটতো, তাহলে তা অবশ্যই গণমাধ্যমের নজরে আসতো।’
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ভালুকায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল ফখর উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে। তখন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে বিএনপিতে ফিরে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তিনি।
দলের এবারের চিঠিতে সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, ‘৫ আগস্ট ২০২৪-পরবর্তী সময়ে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে আপনাকে গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে বহিষ্কার করা হয়েছিল। কৃত অপরাধের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আবেদন করার পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক উক্ত বহিষ্কারাদেশ গত ২৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রত্যাহার করে আপনার প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আপনি ও আপনার ঘনিষ্ঠ লোকজন আবারও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নানা ধরনের অনৈতিক অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।’
দুই বছর আগে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার সময়ও ফখর উদ্দিন ভালুকার শিল্পপ্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘কারখানা দখলের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই’।
ফখর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কোনও কারখানার সামনে আমরা কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জটলা হতে দিইনি। মালিকপক্ষের অনুমতি ছাড়া কারও পক্ষে কোনও কারখানার ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। আবার কোনও কারখানা থেকে পণ্য বের করতেও নির্ধারিত গেটপাস, ওয়ার্ক অর্ডার ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। তাই জোর করে কারখানা দখল বা পণ্য নেওয়ার সুযোগই নেই।’
দলের নোটিশ প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘কয়েক দিন আগে দুটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন আমি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সরাসরি দলের দফতরের কর্মকর্তার সঙ্গে কনফারেন্সে যুক্ত করে দিই। সেখানেও তারা স্পষ্টভাবে জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে কোনও ধরনের সমস্যা হয়নি এবং স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চলছে।’
এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শোকজের চিঠি হাতে পাননি জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়েছে। পরে এ নিয়ে আমাকে শোকজ করা হবে, এমনটি ধারণা করিনি।’







