নির্বাচন কমিশনে (ইসি) বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির হিসাব অনুযায়ী বিগত অর্থ বছরে তাদের আয় হয়েছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। এছাড়া উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৫ টাকা।
রবিবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দলীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। হিসাব জমা দেওয়ার পরে সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত তথ্য জানান রিজভী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের প্রারম্ভিক স্থিতি ২১ কোটি ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫ টাকা। গত বছর আমাদের আয় হয়েছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা। ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। এখানে আমাদের উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৫ টাকা। ব্যাংকে মোট গচ্ছিত রয়েছে ২৮ কোটি ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ টাকা। এছাড়া হাতে নগদ রয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা। সর্বমোট ২৮ কোটি ৭ লাখ ৩৬০ টাকা রয়েছে।
সব প্রক্রিয়া অবলম্বন করে হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা গণতান্ত্রিক রাজনীতির ক্ষেত্রে জনগণের কাছে জবাবদিহির জায়গা আরও পরিষ্কার, সমুন্নত করা। দলীয় আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য এটি করা হয়েছে। আমরা মনে করি, গণতান্ত্রিক দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া। জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের পরিচালনা, আয়ের উৎস এবং ব্যয় কী হয়েছে, তা জনগণকে জানানো উচিত।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপির মোট আয় ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা। একই সময়ে দলটির ব্যয় ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২৩ টাকা। ২০২৩ সালে বিএনপির আয় হয়েছিল ১ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার ১৫১ টাকা। ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ৬৫ লাখ ২৩ হাজার ৯৭০ টাকা।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। টানা তিন বছর এই হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।







