সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থানা হাজতে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত বাবু মিয়া (৩৫) উপজেলার জামতৈল ইউনিয়নের ধোপাকান্দি কবরস্থানপাড়ার মৃত মুজা মিয়ার ছেলে। নিহতের স্বজনদের দাবি বাবুকে চোর সাজিয়ে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ বলছে বাবু আত্মহত্যা করেছে।
নিহত ভ্যানচালক বাবুর খালা হাসিনা বেগম অভিযোগ করে জানান, গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে পুলিশের কথিত সোর্স ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে বাবুর ঝামেলা হয়। এ নিয়ে ফরিদ ক্ষুব্ধ হয়ে বাবুকে দেখে নেবেন বলেও প্রকাশ্যে ভয়ভীতি দেখান।
পরে কামারখন্দ থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) বাবুলের সঙ্গে যোগসাজসে বাবুকে চোর বানিয়ে থানায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। বাবুর লাশ জীবিত দেখিয়ে কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করেও পুলিশ ব্যর্থ হয় বলেও জানান বাবুর খালা হাসিনা বেগম।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল উদ্দিন সরদার বলেন, মঙ্গলবার সকালে বাবুসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি চুরি মামলা হয়। এরপর দুপুরে তাকে গ্রেফতার করে থানায় এনে হাজতে রাখা হয়। বুধবার ভোরে হাজতখানার ভেতরের বাথরুমে পরণের টি-শার্ট গলায় পেঁচিয়ে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধারের পর কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। রাতে একই হাজতে বাবুর সঙ্গে আরও ৩ আসামি রাখা হয়েছিল। ঘটনার পর বাবুর স্বজনরা মিথ্যা প্রচার করছে। বাবু নেশাসক্ত ও পেশাদার চোর বলেও জানান ওসি।
তবে পুলিশের কথিত সোর্স ফরিদুল ইসলামকে ধোপাকান্দিতে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী পারভীন বেগমের জানান, ভোটের পরদিনই তার স্বামী ঢাকার কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। তার স্বামীকে এ ঘটনায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, থানা হাজতে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল হাসান তালুকদার ও ডিবি পুলিশের ওসি ওহেদুজ্জামান সদর হাসপাতাল ও কামারখন্দ থানা পরিদর্শন করেছেন।
আরও পড়ুন: দিনাজপুরে প্রাইম ব্যাংকে আগুন, মালামাল পুড়ে ছাই
/এমও/আপ-এআর/







