খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় রবিবার ভোর থেকে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে খুলনার সোনাডাঙ্গা আন্ত:জেলা বাস টার্মিনাল থেকে কোনও বাস ছাড়েনি। খুলনা থেকে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ১৮টি রুটে বাস, মিনিবাসসহ ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় অভ্যন্তরীন রুটগুলোতেও যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী লায়লা আক্তার বলেন, সকালে অফিসের উদ্দেশে যাওয়ার জন্য সোনাডাঙ্গায় এসে বাস না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।
বাস টার্মিনালে শিশু নিয়ে আসা আকবর হোসেন বলেন, গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য ভোরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্ট্যান্ডে আসি। কিন্তু বাস না ছাড়ার কারণে ফিরে যেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিবহণ ধর্মঘটের বিষয়টি জানা ছিল। কিন্তু খুলনা থেকে এই রুটে সাধারণত সমস্যা হয় না। সে ভাবনা থেকেই বাসা বের হয়েছিলাম।
সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম বক্স দুদু বলেন, ১৫ দিনেরও বেশি সময় দেওয়া হয়েছিল। তিন দফা দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এ সময় অনেক বেশি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। ফলে ধর্মঘট শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আপাতত খুলনা বিভাগে এ ধর্মঘট চলছে। এর প্রভাবে পাশ্ববর্তী ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জেও বাস চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দুদিনের কর্মসূচিতে দাবি আদায় না হলে আগামীতে দেশব্যাপী ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, বাস, ট্রাক ট্যাঙ্কলরি কাভার্ড ভ্যানসহ সকল প্রকার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে।
শ্রমিকদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহতের ব্যাপারে দায়েরকৃত মামলা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে বিচার কাজ শেষ করা, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা (মামলায় ৭ কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপুরণ দাবি করা হয়েছে। মামলা দুটি বর্তমানে হাই কোর্টে বিচারাধীন)। এছাড়া গ্রিন লাইন পরিবহনের নামে সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহার করা।
আরও পড়ুন:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ‘নিখোঁজ’
/বিটি/







